তামিমের সেঞ্চুরির পর স্বপ্নের ‘অপমৃত্যু’

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
তামিম ইকবাল কি দারুণ ব্যাটিং-ই না করলেন। কিন্তু তামিমের পরৃমিরপুরে বলাবলি করছিল, তামিম কঠিনতম উইকেট সহজ বানিয়ে ব্যাটিং করেছেন। বলের উপরে গিয়ে অ্যাটাক করে ইংল্যান্ডের বোলারদের সহজভাবে হ্যান্ডেল করেছেন।
মোটকথা মিরপুরের উইকেটকে তামিম ব্যাটিং স্বর্গ বানিয়ে ফেলেছিলেন। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তার বিদায়ে সেই স্বপ্নের ‘অপমৃত্যু’ হয়।
কিন্তু তামিমের পর যারা ব্যাটিং করেছেন তাদের ব্যাটিং ও স্কোরবোর্ড দেখলে মনে হবে, ‘মিরপুরে আজ বুঝি ডেথ উইকেটে খেলা হয়েছে।’
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন ১৩ উইকেট তুলে নিয়েছে বোলাররা। বাংলাদেশের ১০ উইকেটের পর ইংল্যান্ড ৩ উইকেট হারায়। বাংলাদেশের স্কোর ২২০, ইংল্যান্ডের ৫০। বৃষ্টির কারণে প্রায় ৫০ মিনিটের খেলা হয়নি। বলের হিসেবে ১১.৩ ওভার বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে। বাংলাদেশের স্পিনাররা যেভাবে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের উপর চেপে বসেছিল; দিনের বাকিটুকু খেলা হলে নিশ্চিতভাবেই আরও ২-১টি উইকেট হারাত সফরকারীরা। তবে দিনটি হতে পারত শুধুই বাংলাদেশের।
৫০তম টেস্টে টসে জিতে মুশফিকুর রহিম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাটিংয়ে আসেন পুরনো সঙ্গী তামিম ও ইমরুল। তামিম টিকে গেলেও ক্রিস ওকসের অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে লোভ সামলাতে পারেননি ইমরুল। পয়েন্টের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। নিজের উইকেট উপহার হিসেবে দিয়ে আসেন সফরকারীদের। ১ রানেই শেষ ইমরুলের প্রতিরোধ।
এরপর দেখেশুনে মুমিনুলকে নিয়ে সতর্ক শুরু তামিমের। ২৭ বলে আসে প্রথম বাউন্ডারি। ওকসের প্যাডের উপরের বল লেগ সাইডে দারুণ ফ্লিক করে বাউন্ডারি তুলে নেন মুমিনুল । এক বল পর ওই ওভারের শেষ বলে তৃতীয় স্লিপ ও গালির মাঝ দিয়ে আসে দ্বিতীয় বাউন্ডারি।
শুরুর দিকে তামিম ছিলেন রক্ষণাত্মক। ২০তম বলে পান প্রথম রানের স্বাদ। উইকেটে সেট হতে সময় নিলেও তামিম পরে ফিরে আসেন স্বরূপে। পরের ১৯ বলে আসে ১১ রান। এর পরই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ক্রিস ওকস, মঈন আলী ও জাফর আনসারিকে শাসন করেন নিজের মতো করে। ক্রিস ওকসের এক ওভারে ৩টি ও অভিষিক্ত আনসারির প্রথম ওভারে ২টি বাউন্ডারির স্বাদ নেন দেশসেরা ওপেনার। দারুণ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় ৬০ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। এরপর সেঞ্চুরি তুলে নিতে আরো ৭৩টি বল খেলেন বাঁহাতি এ ওপেনার।
মঈন আলীর বলে কভার দিয়ে চার মেরে ৯৩ থেকে ৯৭-এ পৌঁছান তামিম। পরের বলে মিড অন দিয়ে একই শটে বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগার। লর্ডস, ম্যানচেস্টারের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ঢাকায়।
সেঞ্চুরির পথে তামিমকে দুবার রিভিউয়ের মুখোমুখি হতে হয়। ১৪তম ওভারের শেষ বলে মঈন আলী এলবিডব্লিউর আবেদন করেন। আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা সাড়া না দেওয়ায় কুক রিভিউ চান। রিভিউয়ের আবেদন ভেস্তে যায় ইংল্যান্ডের। তখন তামিমের রান ৪৭। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে তামিম ইকবালের ক্যাচের আবেদন করেন পেসার বেন স্টোকস। এবার ধর্মাসেনা আঙুল তুলে দিলেও তামিম দ্রুত রিভিউয়ের আবেদন করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তামিমের থাই গার্ড স্পর্শ করে বেয়ারস্টোর তালুবন্দি হয়। এ যাত্রায় রিভিউ নিয়ে ‘বেঁচে’ যান তামিম। সেঞ্চুরির পথে ৭২ রানে আদিল রশিদের বলে জনি বেয়ারস্টোর হাতে জীবন পান তামিম।
এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তামিমকে। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে বড় কোনো উদযাপন করেননি। হয়তো বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় একটু পরেই। মঈন আলীর পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তামিম। তার আগে ১৪৭ বলে ১২টি চারের সাহায্যে খেলেন ১০৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়। তামিম যখন আউট হলেন তখন দলীয় রান ১৭১। এরপর ৪৯ রান যোগ করতেই ৯ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। একটি উইকেটও যদি ভালো বলে হত তাহলেও হত! বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যান নিজেদের উইকেট আত্মহুতি দিয়ে আসে ২২ গজের ক্রিজে। শেষ ৯ উইকেট বাংলাদেশ হারায় ২২.৪ ওভার ও ১০৫ মিনিটে।
শুরুটা মুমিনুল হককে দিয়ে। তামিমের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটি ভাঙার কিছুক্ষণ পর মুমিনুল হক মঈন আলীর বলে বোল্ড। দীর্ঘদিন পর হাফসেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া মুমিনুল হক ইনিংসটি বড় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ‘আলসেমি’ ভর করায় উইকেটের উপর সহজ বল মিস করেন ৬৬ রান করা মুমিনুল। এরপর চা-বিরতির আগে মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির স্টোকসের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন। আর মুশফিকুর রহিম মঈন আলীর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লেগ স্লিপে।
চা-বিরতির পর ১৫ রান যোগ করতেই শেষ ৪ উইকেট। শুভাগত হোম (৬) ওয়কসের বলে বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দেওয়ার পর ১ রানে মিরাজ মঈন আলীর বলে এলবিডাব্লিউর শিকার। সঙ্গী হারিয়ে সাকিব একাই বা কি করবেন? ওয়কসের বলে উইকেটের পিছনে যখন ক্যাচ দিলেন তখন তার রান মাত্র ১০। এরপর রাব্বীর বিদায়ে ইতি টানে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ ৬ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারল না!
স্পিন সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশ শিবিরে কাঁপুনি ধরিয়েছেন মঈন আলী। ক্যারিয়ার সেরা এবং প্রথমবারের মত ডানহাতি এ স্পিনার নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়কস ৩টি ও ২টি উইকেট নিয়েছেন বেন স্টোকস।
বোলিংয়ে ফিরে স্বরূপে বাংলাদেশ। সাকিবের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন বেন ডাকেট। ওভারের পঞ্চম বলে সাকিব বদলা নেন। এরপর তরুণ তুর্কী মেহেদী হাসান মিরাজ শো। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুক (৭) ও গ্যারি ব্যালেন্স (৯) মিরাজের শিকার। স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৫০ তুলে দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের থেকে এখনও তারা পিছিয়ে ১৭০ রানে। ক্রিজে আছেন জো রুট (১৫) ও মঈন আলী (২)। রাইজিংবিডি