তারকাখ্যাতি সামলাতে না পেরেই কেলেঙ্কারিতে ডুবছেন ক্রিকেটাররা?

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দারুণ এগিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সাফল্যে বাংলাদেশ এখন রীতিমতো জায়ান্ট একটি দল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখন দেশের সবচেয়ে বড় তারকা। সমস্যা হলো, এই তারকাখ্যাতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেক নামি দামী ক্রিকেটারই। সম্প্রতি এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক নাম। পেসার শহীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগ এনেছেন খোদ তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার। জানা গেছে বড় শাস্তিই পেতে পারেন মোহাম্মদ শহীদ। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের এরকম নানা রকমের কেলেঙ্কারির বিষয় উঠে আসছে তাই এটা আর হালকাভাবে নেওয়ার উপায় তো নেই।
টেস্ট খেলোয়াড় শহীদের বিরুদ্ধে মেলা অভিযোগ তার স্ত্রীর। দুই সন্তান তাদের। শহীদ স্টার হয়ে যাওয়ার পর এই স্ত্রীকে তার আর ভালো লাগে না। স্ত্রীর অভিযোগ, নানা মেয়েতে আসক্তি তার স্বামীর। কিছু বলতে গেলে মার খেতে হয়। অনেক হজম করেছেন। কিন্তু শহীদ এখন আর তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখতে বা মানতে নারাজ। আরো অনেক অভিযোগ। শহীদ নিজে মিটমাট করে নিলে সমস্যাটা এতোদূর আসতো না। কিন্তু স্টারডমের কারণে হয়তো পরিণামটা ভুলে বসে আছেন।
মাঠের বাইরের কেলেঙ্কারিতে সাকিব আল হাসান জড়িয়েছেন। ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের মামলায় জেল খেটেছেন রুবেল হোসেন। আরাফাত সানি ঘরে স্ত্রী রেখে বাইরেও আরেক স্ত্রী নিয়ে সমস্যায় আছেন। জেল খেটেছেন। শাহাদাত হোসেন রাজীব জেলে কাটিয়েছেন, তার স্ত্রীও। সেটি শিশু নির্যাতনের মামলায়। সাব্বির রহমান, আল-আমিন হোসেনরা বড় অংকের জরিমানা গুনেছেন অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে। অজানা নিশ্চয়ই আরো কিছু আছে। এসব হচ্ছেটা কি?
ক্রিকেট বোর্ড বরাবর এই শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে কঠোর। শাস্তি দিতে দেরী হয় না। শহীদের স্ত্রী সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রোববার বিসিবি কার্যালয়ে এসে চার পৃষ্ঠার অভিযোগের চিঠি জমা দিয়েছেন। তিনি ঘর করতে চান। শান্তি চান। সন্তানদের মানুষ করতে চান ভালোবাবা শহীদের সন্তান হিসেবেই।
এসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক একটা নিষেধাজ্ঞা চলে আসে ক্রিকেটারের ওপর। বোর্ডের শীর্ষ এক কর্মকর্তার সাথে এই বিষয়ে পরিবর্তন ডটকম যোগাযোগ করলে এখনই তেমন কিছু জানা গেলো না। কারণ জানানোর কিছু নেইও। তিনি যা জানালেন, তার সারকথা হলো কেবল অভিযোগ এসেছে। সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। এটা একা কারো কাজ নয়। কমিটির কাজ। এই ঘটনায় কোনো শাস্তিমূলক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি আলোচনার পরই ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে গৃহপরিচারিকা হ্যাপীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন মামলায় ক্রিকেট থেকে নিষিদব্ধ হয়েছিলেন পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীব। সে মামলায় সস্ত্রীক জেলও খেটেছেন তিনি।  পড়ে হ্যাপীর সঙ্গে সমঝোতা করে সে নিষেধাজ্ঞা থেকে উদ্ধার পান তিনি।
শুধু শাহাদাতই নয়, ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আচরণ বিধি ভঙ্গ করা। কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়েন তিনি। এর আগেও টিভি ক্যামেরাও উস্কানিমূলক অঙ্গভঙ্গী জন্য তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব। গত বিপিএলের মাঝ পথে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা দেন সাব্বির রহমান ও আল-আমিন হোসেন। এ দুই ক্রিকেটার ছাড়া একই কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল আরও রংপুর রাইডার্সের জুপিটার ঘোষ নামের তুলনামূলক অখ্যাত খেলোয়াড়ের। তবে নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানার খড়গে না পড়লেও কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন ও আরাফাত সানি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কেলেঙ্কারির ঘটনায় যেটি সবচেয়ে আলোচিত। ২০১৪ সালের শেষ দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন তখনকার মডেল ও অভিনয় শিল্পী নাজনিন আক্তার হ্যাপি। যদিও পরে নিজেই মামলা তুলে নেন হ্যাপি।
আর আরাফাত সানির কেলেঙ্কারির ঘটনা এখনও তরতাজা। স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন কথিত স্ত্রী নাসরিন। সে মামলায় প্রায় তিন মাস জেল খাটেন সানি। পড়ে জামিনে মুক্ত হলেও এখনও সে মামলার সুরাহা হয়নি। জানা গেছে শেষ পর্যন্ত নাসরিনকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন সানি। দুই স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করতে হবে। অন্য স্ত্রী নাকি সেটি মানতে নারাজ!
তবে শহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও এখনও মামলা করেন নি ফারজানা। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে এসে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। চার পাতার চিঠিতে তার উপর করা নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। শহীদকে এই দুপুরেই পাওয়া গিয়েছিল মাঠে। তার স্ত্রীর বিসিবিতে এসে অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলা হলো। বিষয় গুরুতর। কিছুদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনাও চলছে। কিন্তু শহীদকে এদিনের এই পরিস্থিতিতেও তেমন বিচলিত মনে হলো না। ‘আমার বিরুদ্ধে যা সব অভিযোগ দিয়েছে তা সব মিথ্যা। আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব করছে সে।’ এই কথটা বলেই অনেকটা গটগটিয়ে চলে গেলেন শহীদ। যেন কিছুই হয় নি!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ