তারাদের জন্ম-মৃত্যু থেকে ব্ল্যাকহোলের মূর্ছনা, মহাজাগতিক সঙ্গীত শোনাল নাসা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ৭:৪১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


পৃথিবীর বায়ুমন্ডল পেরিয়ে যত মহাকাশের অভ্যন্তরে ঢুকবেন তত নিকষ কালো অন্ধকার গ্রাস করবে চারদিক। শুধু কোটি কোটি তারা, গ্রহ কালো ক্যানভাসে স্থির এলিডি আলোর মতো ঝুলে থাকবে। মহাকাশে আরও একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, তা হল শব্দশূন্যতা। ওখানে হাওয়া নেই, ধূলিকণা নেই, ফলে শব্দতরঙ্গ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার মাধ্যম পায় না। তা বলে কি শব্দ নেই? হাজার রকমের শব্দ আছে। কোথাও তারাদের জন্মের সময়ের বিস্ফোরণের শব্দ, কোথাও ‘বুড়ো’ নক্ষত্র মৃত্যুর বিস্ফোরণ এবং ফলত মহাজাগতিক আলোর ঝলকানি (সুপারনোভা)।

আবার ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি এলাকারও এক অনির্বচনীয় শব্দ রয়েছে। কিন্তু এসব শ্রবণযোগ্য নয়। উপায় করেছে নাসা, আলো এবং বিস্ফোরণের তীব্রতার পরিমাণ বুঝে তাতে শব্দ বসিয়েছে তারা। আলো এবং বিস্ফোরণের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করেছে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং চন্দ্র এক্স-রে অবজার্ভেটরি।

হাবলের সংগ্রহ করা রেডিও তরঙ্গ তারযন্ত্রের সাহায্যে বোঝানো হয়েছে। চন্দ্র অবজার্ভেটরির এক্স-রে তরঙ্গ বোঝানো হয়েছে ঘণ্টাধ্বনি দিয়ে। কোটি কোটি তারার আলো বাড়া-কমা, নিরন্তর বিস্ফোরণ মিলে এক সাইকাডেলিক মূর্ছনার সৃষ্টি করেছে। আলো যত তীব্র, শব্দের তীব্রতাও তত বেশি। একে মহাজাগতিক সঙ্গীত ছাড়া আর কীই বা বলা যায়। নাসা এমন তিনটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মহাজাগতিক সঙ্গীত কীভাবে কেন্দ্র থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে তা দেখানো হয়েছে। ঘোর এনে দেবে তিনটে ভিডিওই।

প্রথম ভিডিওর নাম ওয়েস্টারল্যান্ড-২। পৃথিবী থেকে ২০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে শিশু নক্ষত্রের জন্মমুহূর্তের সঙ্গীত তুলে ধরা হয়েছে এতে। নীল এবং সবুজ তারাগুলো ঝিকমিক করে জ্বলে উঠছে এবং সেই সময়ে টুংটাং শব্দে মাতোয়ারা হচ্ছে কান। এখানে তারার জ্বলে ওঠাই হল জন্মের প্রতীক।
জন্মের আনন্দের পাশাপাশি নক্ষত্রের মৃত্যুর করুণ সঙ্গীতও রয়েছে। এই ভিডিওর নাম টাইকো’স সুপারনোভা। তারার মৃত্যুকালীন বিস্ফোরণে লোহা, সিলিকন, সালফার সমস্ত ধাতু ছিটকে বেরিয়ে আসছে। লোহার রঙ লাল, সিলিকন সবুজ এবং সালফার নীল দিয়ে বোঝানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তরঙ্গ যত গোল হয়ে বড় হচ্ছে শব্দের তীব্রতাও তত বাড়ছে।

আর আছে সর্বগ্রাসী ব্ল্যাকহোলের মরণসঙ্গীত। আজ অবধি মেসিয়ার-৮৭ বা এম-৮৭ কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে পেরেছে নাসা। কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে ৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর ভর সূর্যের ভরের ৬০০ গুণ। এর সঙ্গীত বাকি দুটোর থেকে অনেক ধীর লয়ের, বলা ভাল তালহীন, গম্ভীর সুরের।
তথ্যসূত্র: আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ