তালগাছ লাগানোর যে পরিকল্পনা বাতিল বিলম্বে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত

আপডেট: মে ১৩, ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

বজ্রপাত থেকে বাঁচাতে দেশজুড়ে এক কোটি তালগাছ লাগানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার, তা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বুধবার (১১ মে) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওই কর্মসূচি বাতিল করার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে
২০১৭ সাল থেকে সারা দেশে ব্যাপকহারে তালগাছ লাগানোর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই বছর সরকার ১০ লাখ তালগাছ রোপণের পরিকল্পনা নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে গ্রামেগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারিকেল গাছ থাকলে সেগুলো বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো যাবে।
সরকার কাবিখা কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপি নির্মিত রাস্তার দুই পাশে তালের বীজ লাগানো হয়েছে। এ শর্ত দিয়েই কাবিখা চলেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর দেখভাল করেছে। ডিসি, ইউএনও এবং জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সামগ্রিকভাবে এর মনিটর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। হঠাৎ করেই তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে গেল কেন? এটা ধারণা করা যায় যে, যে বিশেষজ্ঞগণ বজ্রপাতে মৃত্যু রুখতে তালগাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন সেটা মোটেও বাস্তবসম্মত ছিল না। প্রকল্প বিবেচনার ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে বিবেচনা করা হয়েছে বলেও মনে হয় না। আগপিছ না ভেবেই তালগাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিলÑ যা থেকে কোনোরূপ সুফল পাওয়া গেছে কিনা সে ব্যাপারে পরিস্কার কিছু জানা যায়নি। তবে এ প্রচেষ্টা-কৌশল যে ব্যর্থ হয়েছে সেটা বলাই যায়। যার ফলে সরকার তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বুধবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত আমরা’ শীর্ষক সংলাপে স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৩৮ লাখের মতো তালগাছ লাগানোর পর দেখা গেল, যতেœর অভাবে মারা যাচ্ছে। তাই এটা বাতিল করে দিয়েছি। আর একটি তালগাছ বড় হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে।” তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না তা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেই উল্লেখ আছে। অর্থাৎ বজ্র্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে দেশকে ৩০ থেকে ৪০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এটাকে বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করা সঠিক হয়নি। বরং সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় পরিকল্পনা-কৌশল নেয়া যেতে পারতো। বর্তমানে বজ্রপাত ঠেকাতে তাল চারা নয়, বজ্রনিরোধ দণ্ড স্থাপনের দাবি জানানো হচ্ছে। বজ্রপাতের আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যায় না বটে কিন্তু বজ্রপাতের সময়, আচরণ ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে দেশের মানুষকে নিবিড়ভাবে সচেতন করা যায়। এটা লক্ষনীয় যে, বজ্রপাতের ঘটনাগুলোর অধিকাংশই বিকেলের পর থেকে সংঘটিত হয়ে থাকে। বজ্রপাতের এই লক্ষণও কাজে লাগানো যেতে পারে।
সর্বোপরি বিলম্বে হলেও সরকার তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। সময়ের জন্য সময়োপযোগী কাজ না করলে ৩০-৪০ বছর পরেও কাজটি আন্তঃসারশূন্যই থেকে যায়। ‘ভাবিয়া’ কাজ করাই শ্রেয় বচন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ