তালিকার বাইরের মুক্তিযোদ্ধারা স্বীকৃতি চায় ।। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনাক্তও করা চাই

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধার বিরোধটা সেই গোড়া থেকেই চলে আসছে। বিষয়টির স্থায়ী সুরাহা করতে কোনো সরকারই উদ্যোগী হয়নি। আর উদ্যোগী হলেও শেষ পর্যন্ত নানামুখি চাপের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাদের কাতারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু তা-ই নয়- ওই অমুক্তিযোদ্ধারা রীতিমত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সরকারের সকল সুযোগ- সুবিধা ভোগ করছে। কিন্তু দেশের এখনো অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সরকারের তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। তারা যে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে দেনদরবারও অব্যাহত রেখেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে রোববার প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে তৈরি তালিকায় রয়েছে বহু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার লক্ষ্যে নতুনভাবে আবার শুরু হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। এ যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে মুক্তিযুক্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও যাচাই-বাছাইয়ের সম্ভাব্য তারিখ দেয়া আছে। ওই ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, রাজশাহী নগরীতে যাচাই-বাছাইয়ের সম্ভাব্য তারিখ দেয়া হয়েছে জানুয়ারির ৭ তারিখ। জেলার গোদাগাড়ী থানায়ও ৭ তারিখ, তানোর ও পুঠিয়ায় ১৪, মোহনপুর ও চারঘাটে ২১ এবং বাগমারা ও দুর্গাপুরে ৪ ফেব্রুয়ারি।
অথচ এই যাচাই-বাছাই নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছে। তারা সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। তাদের বাদ দেয়া অনেক কঠিন হবে। আবার অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাও স্বীকৃতি পাননি। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়ে খোদ কেন্দ্রে আবেদন পড়েছে দেড় লাখ। তবে যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হলে সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্বীকৃতি না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারাও তালিকাভুক্ত হবেন।
মুক্তিযোদ্ধারা দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধাই  মুক্তিযুদ্ধ করাটাইকে দেশের জন্য কর্তব্যকাজ বলে মনে করেছেন। স্বাধীনতার পর তারা মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় দিতে বহুবিধ উদ্যোগ নিয়েছেন। মাসিক ভাতা তো বটেই- তাদের নাতি-নাতনিরাও সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে শুরু করেছে। এটাকে রাষ্ট্রের গৌরবময় স্বীকৃতি হিসেবে মানছেন। সমাজও বিষয়টিকে মর্যাদা ও স্বীকৃতির নিরীখেই বিচার করছে। ফলে যে মুক্তিযোদ্ধরা এতোদিন সনদপত্র নেন নি। তারা নতুন করে সনদ পেতে আবেদন করেছেন। অবশ্যই এই মুক্তিযোদ্ধারা সরকারের গেজেটভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন। কিন্তু বিষয়টি যে খুব সহজ নয়- তা বলাই বাহুল্য।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাঁরা তালিকাভুক্ত হতে আবেদন করেছে তাদেরকে তালিকাভুক্ত করা এবং যারা অমুক্তিযোদ্ধা তাদের চিহ্নিত করার জন্য সরকার যাচাই বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে- তা প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগ সদিচ্ছাপূর্ণ হলে বাদপড়া মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, তেমনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেয়াও সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শুধু বাদ নয়- ভাতাসহ তারা যেসব সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে তা ফেরৎ এবং জালিয়াতির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাও সঠিক হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ