তালিবানের সভায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন পুরুষরা!

আপডেট: জুন ৩০, ২০২২, ১:৫০ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


সভ্যতার পথে মানুষ দ্রæত এগিয়ে গেলেও, তালিবান আছে তালিবানেই। সময়ের সঙ্গে তারা যেন বিবর্তনের পথে পিছু হাঁটছে। বিশেষ করে নারীদের ‘বন্দি’ করে রাখাতে অত্যন্ত তৎপর তালিবরা। ফের ক্ষমতায় এসে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ওই মৌলবাদীরা পালটায়নি।

এবার আফগান জাতীয় ঐক্য সভায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন পুরুষরাই বলে জানিয়েছে তালিবানের উপ প্রধানমন্ত্রী মওলাই আবদুল সালাম হানাফি।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ কাবুলের লয়া জিরগা প্রেক্ষাগৃহে বসছে জাতীয় ঐক্য সভা। গোটা দেশ থেকে সেখানে হাজির থাকবেন অন্তত ৩ হাজার মুসলিম ধর্মগুরু এবং আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির প্রবীণরা।

আফগানিস্তানের রাজধানীতে শুধুমাত্র পুরুষদের নিয়ে আয়োজিত অধিবেশনটি এই ধরনের প্রথম ঘটনা। এই সভাকে বিদ্রোহী থেকে পরিণত-শাসকগোষ্ঠীর জন্য অভ্যন্তরীণ বৈধতা প্রচারের একটি প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। এই বিষয়ে বুধবার তালিবানের উপ প্রধানমন্ত্রী মওলাই আবদুল সালাম হানাফিকে মহিলাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি জানান, মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন পুরুষরাই। তার বক্তব্য, “মা, বোনেদের আমরা সম্মান করি।

তাঁদের সন্তানরাই ওই সভায় থাকবেন। অর্থাৎ, এক অর্থে তাঁরও সেখানে থাকছেন।”
এদিকে, তালিবানের এহেন নারী বিদ্বেষী সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি। তাদের স্পষ্ট কথা নারী প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে এই সভার কোনও বৈধতা থাকছে না।

সূত্রের খবর, জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা হবে এদিনের সভায়। পাশাপাশি, মেয়েদের স্কুল খোলা ও নারীদের অধিকার নিয়েও আলোচনা হতে পারে সেখানে। সেক্ষেত্রে কোনও নারী প্রতিনিধি ছাড়া আলোচনার মোড় কোনদিকে ঘুরবে তা স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় এসেই ফের আফগানিস্তানকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে তালিবান। রাস্তায় বেরতে হলে হিজাব বাধ্যতামূলক বলে ফতোয়া জারি করেছে ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠনটি। মেয়েদের স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রেও নারীদের প্রবেশ অনিশ্চিত। গত আগস্টে আফগানিস্তান দখল করেছিল জেহাদিরা। নতুন করে সেদেশে শুরু হয়েছিল অন্ধকার যুগ।

যদিও ক্ষমতা দখলের পরে তারা জানিয়েছিল, এটা তালিবান ২.০। গতবারের মতো দমন পীড়ন নয়, বরং সাধারণ আফগান বিশেষ করে নারীদের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্রতী থাকবে তারা। কিন্তু তা যে স্রেফ ‘ফাঁকা বুলি’, সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল আগেই। এবার তা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গেল।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ