তালেবানদের হাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল ফটোসাংবাদিক দানিশের দেহ

আপডেট: আগস্ট ১, ২০২১, ১২:১০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দানিশ সিদ্দিকী। ফাইল ছবি

সম্প্রতি আফগানিস্তানে নিহত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আলোকচিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকীর মরদেহ তালেবানদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গত ১৬ জুলাই কান্দাহারে তালেবান ও আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ভারতে রয়টার্সের প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক পুলিৎসারজয়ী দানিশ সিদ্দিকী নিহত হন। ওইদিন স্পিন বোলডাক জেলায় তাদের গাড়িবহরটি তালেবান হামলার মুখে পড়ে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক কিছু ছবিতে দেখা গেছে দানিশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও এছাড়া প্রায় পুরো দেহ অক্ষত রয়েছে।
সেদিন সন্ধ্যায় মৃতদেহটি রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেটি কান্দাহারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুইজন ভারতীয় কর্মকর্তা এবং দুইজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় দানিশের মরদেহ খুবই মারাত্মকভাবে বিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দানিশ নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর ‘নিউজলন্ড্রি’ নামে ভারতের একটি ওয়েবসাইটে এই খবর প্রকাশিতও হয়েছিল।
ভারতীয় ও আফগান হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের তোলা কিছু ছবি পর্যালোচনা করে দানিশের মরদেহ বিকৃত করার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
ভারতীয় এক কর্মকর্তা জানান, এই সাংবাদিকের মরদেহে অন্তত ডজনখানেক গুলির ক্ষত ছাড়াও মুখ ও বুকে গাড়ির টায়ারের চিহ্ন ছিল।
কান্দাহারের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে প্রেস ভেস্ট পরিহিত দানিশর মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছায়। কিন্তু সে সময় তার মুখ চেনাই যাচ্ছিল না।
মরদেহটির ওপর কি করা হয়েছিল সেটা ভেবে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তবে দানিশের মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালেবান।
তাদের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, মৃতদেহের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা এবং তা স্থানীয় প্রবীণ কিংবা রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে ঘটনার সময় ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল তালেবানদের হাতেই। আর কিছু ছবিতে দেখা গেছে তালেবান যোদ্ধারা দানিশের মৃতদেহ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন পর্যন্ত দেহটি প্রায় অক্ষতই ছল।
তালেবানদের নিষ্ঠুর আচরণের নিন্দা জানিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “নির্যাতন-অন্যায়ের কোনো ঘটনাই যাতে বাদ না পড়ে সেজন্য দানিশ সবসময়ই সামনের কাতারে থাকতেন। তালেবানরা দানিশের সঙ্গে যে নৃশংস আচরণ করেছে, তাতেই প্রমাণ হয়, তিনি নির্যাতনের ঘটনাগুলোর তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, তালেবানরা কান্দাহারে একের পর এক প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে এই প্রদেশে।
১৬ জুলাই কী ঘটেছিল, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা ও তালেবানের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে যাওয়া দলটির ওপর চারদিক থেকে অতর্কিত হামলা চালানো হলে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে (ক্রসফায়ার) মার যান দানিশ ও আফগান বাহিনীর কমান্ডার। মৃতদেহগুলো ফেলেই পিছু হটেছিল অন্য সঙ্গীরা।
আবার কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, দানিশ হয়ত তালেবানদের হাতে জীবিত আটক হয়েছিলেন, পরে তাকে হত্যা করা হয়। তবে কোনো সূত্রের মাধ্যমে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে একজন ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছিলেন, দানিশের মরদেহ দেখে মনে হয়েছে, কিছু গুলি কাছ থেকে করা হয়েছিল।
ঘটনার দুইদিন পর দিল্লির বাড়িতে ফেরে দানিশের কফিনবন্দি মরদেহ। ওিই রাতেই তাকে দাফন করা হয় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার কবরস্থানে। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ