তাহেরপুরে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে চলছে হাট

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২০, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণজমায়েত থেকে দুরে থাকার কথা বলা হলেও সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে গতকাল বসেছিল বিশাল হাট। করোনা প্রতিরোধের নিয়ম না জানা গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষের জমায়েতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন সচেতনমহল। প্রতি সোমবার ও শুক্রবার বসে তাহেরপুর হাট। বাজারে মাংসের দাম, চালের দাম নিয়ন্ত্রণসহ হাট খোলা রাখতে নানা অজুহাত দোকানিদের। এনিয়ে নির্দেশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
করোনাভাইরাস ছড়ানোর কারণ, প্রতিকার ও তার প্রতিরোধের উপায় জানিয়ে পৌর এলাকা জুড়ে চলছে মাইকিং, প্রচার প্রচারণা। অথচ এরই মাঝে হাটে আসছে অসচেতন হাজার হাজার মানুষ। বিশাল হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, ধুলো-ময়লা ও গাদাগাদি অবস্থায় চলছে বেচাকেনা। হাঁচি-কাশি, থুতু ফেলা, হাত মেলানা, জড়িয়েধরাসহ বন্ধ নেই সংস্পর্শে আসার কোন কিছুই। এতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণের। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও জীবিকার তাগিদেই এসেছেন বলছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমরা আসছি পেটের দায়ে। আমাদের কিস্তি আছে। হাটে না আসলে আমাদের আয় হবে না। আর হাটে আগতদের সচেতন করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন মেটানো ও বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাট খোলা হয়েছে বলে দাবি দোকানদার ও ইজারাদারদের। তারা বলেন, পরিস্কার থাকবেন। সাবান দিয়ে হাত ধুবেন; হাটে আসা লোকজনের মধ্যে এমন প্রচার করা হচ্ছে। তবে তাদের যুক্তি মানতে নারাজ সচেতন লোকজন।
সমাজকর্মী হাসানুজ্জামান স্বপন বলেন, দেখা যাচ্ছে পেঁয়াজ এর হাটে পরিচিত লোকেরা এসে হাত মেলাচ্ছে। টাকা নিয়ে গণনা করছে। এই বিষয়গুলো আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তাহলেই করোনার সংক্রামণ ঠেকাতে পারব। বাগমারার সকল হাট বন্ধ রাখার দাবি জানান সচেতন মহল।
এসব ব্যাপারে গণজমায়েতকে নিরুৎসাহিতের কথা বললেও তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ মো. রাসেল বলেন, হাটের জমায়েত নিয়ে বন্ধের নির্দেশ পেলেই ব্যবস্থা নিবেন তারা। জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা এটা বন্ধ করে দেব।