বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

তিন ইসলামী বক্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা নীতিমালার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে

আপডেট: November 25, 2019, 1:18 am

এ মাসের ১১ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিন ইসলামী বক্তাকে জেলায় সব ওয়াজ মাহফিল থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ও স্থানীয়দের সাথে বৈঠকে ওই তিন ইসলামী বক্তাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।
জেলা প্রশাসনের ভাষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়াজ মাহফিল করতে হলে আগেই অনুমতি নিতে হবে এবং আবেদন পাওয়ার পর পুলিশ আগে পর্যালোচনা করে দেখবে- কারা ওয়াজ করবেন। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ওয়াজের অনুমতি দেবে জেলা প্রশাসন।
দেশে বছর জুড়ে বিশেষ করে শীতের মৌসুমে অসংখ্য ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে যাতে ধর্মীয় বক্তারা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এমন অনেক ওয়াজ মাহফিলে কোনো কোনো ইসলামী বক্তা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসে। অনেক সময় ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যও প্রদান করা হয়। এসব বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক এবং উগ্রবাদকে উৎসাহ দেয়।
ওয়াজ মাহফিল সন্দেহ নেই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এ দেশে দীর্ঘকাল ধরে ওয়াজ মাফফিল চলে আসছে। এতে ইসলামী বক্তারা খুবই খোলামেলা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। অনেকের বক্তব্যেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার স্পষ্ট উস্কানিও থাকে। ধর্মীয় সমাবেশের মোড়কে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন বক্তব্য দেয়া যায় কি না সে ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন বক্তব্য দেবার কোনো অধিকার থাকা উচিৎ কি? তবে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান কেমন হবে বা কোনো বিষয়ে বলা যাবে বা যাবেনা তার কোনো নীতিমালাও নেই। তবে সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা আলেমদের অকারণে বিরক্ত না করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য যেনো কেউ না দিতে পারে তা নিয়ে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে এবং এর পক্ষে মতও আছে। ইসলামিক ফাইন্ডেশন প্রশাসনকে যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটা দেখভাল করার জন্যও একটা নীতিমালা থাকা আবশ্যক। এ বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে যে, ইসলামী বক্তাদের একটা তালিকা থাকাও বাঞ্ছনীয়। তারাই তালিকাভুক্ত হবেন যারা ওয়াজ মাফফিলে কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখবেন না- মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওই ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন এবং কোনো ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। যেহেতু ইসলামী বক্তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওয়াজ মাহফিলে মোটা অংকের টাকা নিয়েই বক্তব্য রাখেন। এটাকে ব্যবসাও বলা যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ