তিন জেলায় আট জেএমবি সদস্য গ্রেফতার

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা, নাটোর ও মান্দা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাগমারা, নাটোরের বড়াইগ্রাম ও নওগাঁর মান্দায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জামায়াতুল মুযাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে বাগমারা থেকে পাঁচজন, বড়াইগ্রাম থেকে দুইজন ও মান্দা থেকে একজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
বাগমারায় গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মকবুল হোসেনের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৪৩), গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৫৫), ছমির উদ্দীনের ছেলে আবদুস সাত্তার (২৮), মৃত জাবের আলীর ছেলে আবদুল মান্নান (৪৫) ও উদপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দীনের ছেলে লুৎফর রহমান (৪৮)। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা এর আগেও গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছিল বলে জানা গেছে। বাগমারা থানা পুলিশ জানান, গত ২০০৪ সালে জেএমবি’র শীর্ষ নেতা সিদ্দীকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের দলে অংশগ্রহণ করে বাগমারায় সর্বহারা নিধনের নামে এলাকার সাধারণ মানুষদের হত্যা, গুম ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানা ও আদালতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিল বলে বাগমারা থানার পুলিশ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই জেএমবির সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ পাওয়াই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বড়াইগ্রামে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মেরিগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের গেদু প্রামানিকের ছেলে শাহাবুদ্দিন আহমেদ (৪৬) ও একই এলাকার মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৪৩)। বড়াইগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবি সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। সেই মামলায় ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর গ্রেফতার হয় তারা। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নেয় এবং এরপর আর আদালতে হাজিরা দেয় না। এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। এদিকে দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার মেরিগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তাদের থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মান্দায় গ্রেফতারকৃত খাইরুল ইসলাম (২২) উপজেলার উত্তর পারইল গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কাদিয়ানী মসজিদে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল খাইরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ