তিন মাসে তিন লাখ টাকার খাঁটি খেজুরের গুড় বিক্রি করেন রমজান আলী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা নিজের পরিচয়ে পরিচিত হব। তাই অন্য কোনো পেশার চেয়ে ব্যবসাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা স্বাধীন পেশা। এখানে নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আছে। তাই নিজেকে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়েছি। পরিবার থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা থেকে খাঁটি খেজুরের রস থেকে খাঁটি খেজুরের গুড় তৈরির ব্যবসা শুরু করি। মাঝে মাঝে আবহাওয়া খারাপ থাকায় লোকসান হয়েছে। তবুও থেমে থাকিনি। নিজের মধ্যে আগ্রহ ধরে রেখেছি। বারবার চেষ্টা করে গেছি।’ কথাগুলো বললেন পবা উপজেলার এক সফল গুড় ব্যবসায়ী রমজান আলী। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার হাটগোদাগাড়ীর কাঁঠালপাড়া এলাকায়। তিনি জেলার পবা থানার হাট রামচন্দ্রপুর ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছেন।

ব্যবসা করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও আমি হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং শক্ত হয়ে চেষ্টা করেছি। এভাবেই চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি। তবুও থেমে থাকিনি’।

খেজুরের গুড় তৈরির খরচের বিষয়ে তিনি জানান, তিন মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। তিন মাসে হাড়ি লাগে ১৫০টি যার মূল্য ৭ হাজার টাকা, লেবার খরচ ৪০ হাজার, জ্বালানি খরচ ৪০ হাজার, গাছ বাবদ ৩০ হাজার টাকা, অন্যান্য ৩ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, ‘ কাঁচা সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই চিন্তা করি নিজের ব্যবসাকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায়। সেই চিন্তা থেকেই মাথায় আসে ভেজালমুক্ত খাঁটি খেজুর গুড়ের। যেই চিন্তা; সেই কাজ। শুরু করে দেই গুড় নিয়ে কাজ। হতাশ হতে হয়নি। কাঁচা সবজির মতই বরং বলা যায়, তার চেয়েও বেশি সাড়া ফেলে খেজুরের গুড়।

শুধু কাঁচা সবজি যেখানে ঢাকা ও সিলেটে নিয়ে গেল বিক্রি হয় এক লাখ টাকার মত সেখানে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার খাঁটি খেজুরের গুড় বিক্রি করি। মাত্র ৩ মাসে প্রায় ৬০ মণের বেশি খেজুরের গুড় বিক্রি হয়। প্রতিদিন ১৩০ কেজি খেজুরের রস থেকে ২৭ কেজি খেজুরের গুড় তৈরির করি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৫০ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার টাকা। তিন মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার খাঁটি খেজুরের গুড় বিক্রি করি।’

অনলাইনে গুড় ব্যবসার বিষয়ে জানান, এখনো সফল ব্যবসায়ী হতে পারিনি মন্তব্য করে বলেন, আমি মনে করি, আমার শেখার এখনো বাকি আছে। অনলাইনে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যেসব জ্ঞান, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন; সেসব এখনো পূর্ণতা পায়নি। অর্জন করতে পারিনি। তাই অনলাইনে ব্যবসা করার সুযোগ হয় নাই। কিন্তু ইচ্ছা আছে ব্যবসা শুরু করার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ