তিন মাস নগদ সহায়তা পাবে ৪০ লাখ হতদরিদ্র

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২০, ২:২৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের শহর ও পল্লী এলাকার ৪০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে কমপক্ষে তিন মাসের আর্থিক সহায়তা ও কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আরো একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ (রোববার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
‘বিকাশ’ ও ‘নগদ’মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের হাতে এ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সহায়তা দেয়া হবে ৬ষ্ঠ প্যাকেজের আওতায়। এ প্যাকেজের আওতার ৪০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া ছাড়াও কৃষকদের দুই থেকে তিন শতাংশ সুদে কৃষিঋণ দেয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্যাকেজের খুঁটিনাটি বিষয় চূড়ান্ত করতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে প্যাকেজটি চূড়ান্ত হলে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখে এ ঘোষণা দিতে পারেন।
এ অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে জানান, এর আগে পাঁচটি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। ষষ্ঠ প্যাকেজে শহর ও পল্লী এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের কাছে নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই পরিবারগুলোর মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসের অর্থ সরসারি যাতে সুবিধাভোগীদের পায় তা নিশ্চিত করা হবে। প্যাকেজের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দেয়া হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ অবস্থার ক্ষেত্রে সহায়তার অর্থ কিছুটা বাড়তেও পারে। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থের পরিমাণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। দরিদ্র পরিবারদের আর্থিক সুবিধা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের সহায়তা নেয়া হবে। এই প্যাকেজের আওতায় রিকশাচালক, কুলি, হোটেল বয়, দোকান কর্মচারীরাও সুবিধা পেতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এ হিসাব করা হয়েছে। রোববারের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
প্যাকেজের আওতায় কৃষকদের দুই থেকে তিন শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার বিষয়টিও আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে। এই ঋণের জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ঋণের সুদের ভর্তুকি সরকার বহন করবে।’
সরকার এর আগে অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুই দফায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজ ঘোষণা করে।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি