তিন শতাধিক উস্কানিদাতাকে শনাক্ত অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দেয়া হোক

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২১, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

দেশের কয়েক জেলায় পূজামন্ডপ ও ঘরবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা গভীর হয়ে উঠছে। দুস্কৃতিকারীরা একের একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ওই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা এখনো সম্ভব হয়নি। খুবই সুপরিকল্পিতভাবে এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এটা পরিস্কার যে, দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টিতে একটি মহল তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রদায়িক এসব ঘটনায় দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-নিন্দা হচ্ছে। দোষিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। মূল ধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমেও সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ উচ্চারিত হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- বিভিন্ন এলাকায় পূজামন্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিন শতাধিক উস্কানিদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য সংগ্রহ করে একটি তালিকাও বানানো হয়েছে। এটি ধরে উস্কানিদাতাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনার নেপথ্য মদদদাতাদের খুঁজছে পুলিশ। কিন্তু এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো সাফল্য এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
পুলিশ বলছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে পূজামন্ডপে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একটি পক্ষ নেপথ্যে থেকে সাধারণ মুসল্লিদের উস্কানি দিয়ে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কুমিল্লার ঘটনায় দুই-তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বটে কিন্তু মূল অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নি। এটা জানা খুবই জরুরি যে, মন্দিরে কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ রাখলো এবং কেইবা তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল করলো? এই ঘটনার কুশীলবদের খুঁজে বের করা না গেলে একের পর এক ঘটনার ধারাবাহিকতা রুখে দেয়া কঠিনই হবে।
বলা হচ্ছে কুমিল্লার ঘটনা পরিকল্পিত। এটা নতুন কোনো কথা নয়। সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিটি ঘটনাই সাধারণতঃ পরিকল্পিত হয়ে থাকে। এর আগের সব ঘটনাও যে পরিকল্পিত ছিল- সেটা বোঝা কোনো কঠিন নয়। দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো ঘটনা যারা ঘটাল এবং যে বা যারা এর পরিকল্পনা করলো বা করে চলেছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে-এটা সাফল্যই বটে। কাল-বিলম্ব না করেই ওই উস্কানিদাতাদের গ্রেফতার হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ