তিন শিশুর জীবন বাঁচিয়ে পুরস্কার পেলেন দুর্গাপুর থানার পুলিশ সদস্য

আপডেট: জুলাই ২২, ২০২০, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নদীতে ডুবতে বসা তিন শিশুর জীবন বাঁচিয়ে পুরস্কৃত হলেন রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল আতিক রহমান। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননাপত্র দেয়া হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে আতিক রহমান পেয়েছেন নগদ অর্থও।
বুধবার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ তার হাতে সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় তিন শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য এসপি তাকে ধন্যবাদ জানান। এসপি বলেন, জীবন বাজি রেখে তার এমন কাজ পুলিশের অন্য সদস্যদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দুর্গাপুর থানা সংলগ্ন মন্দিরের পেছনে ররুবেল (১০), স্বচ্ছ (১০) এবং মাহাদী (১১) নামে তিন শিশু খেলছিল। তারা মন্দিরের পেছন দিয়ে বয়ে যাওয়া হোজা নদীতে পা ভেজাতে যায়। তখন কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে ঝুলন্ত ব্রিজের উপর দিয়েই পানির স্রোত প্রবল বেগে বয়ে যাচ্ছিল। ওই তিন শিশু পানিতে নেমে নদীর মাঝামাঝি ঝুলন্ত ব্রিজের কাছাকাছি যেতেই প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে থাকে। বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকে।
এ সময় অনেকেই আশেপাশে থাকলেও কেউ এগিয়ে যাননি শিশু তিনটিকে বাঁচাতে। তবে তিন শিশুর ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি পুলিশ কনস্টেবল আতিক। নিজের জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে তিনি ঝাপিয়ে পড়ে তিন শিশুকে টেনে তুলে আনেন। বিষয়টি জানতে পেরেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হলো। কনস্টেবল আতিক দুর্গাপুর থানার গাড়িচালক।
এদিকে দুর্গাপুর থানা পুলিশের ড্রাইভার আতিক জানান, থানার সামনেই নদীর পাশের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। তার স্ত্রীও পুলিশ সদস্য। স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে স্ত্রীকে সময় দিতে বাসায় ছিলাম। সকাল ১০ টার দিকে মানুষের চিৎকার শুনে বাসার পেছন দিকে নদীর পাশে যেতেই দেখি তিন শিশু পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। অনেকেই নদীর দুই পাশ থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখছে, কেউবা মোবাইলে ভিডিও করছে বা ছবি তুলছে। ওই তিন শিশুকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসছেনা। এ দৃশ্য দেখে স্থির থাকতে না পেরে প্রবল স্রোতে ঝাপিয়ে পড়ে ভেসে যাওয়া ওই তিন শিশুকে উদ্ধার করি। তিনি আরো বলেন, নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকেই তিন শিশুকে উদ্ধার করেছি। অনেকেই এদৃশ্য তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেও তাতে আমার মন সায় দেয়নি। যা করেছি মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে করেছি অন্যকোন উদ্দেশ্যে নয়।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশীদা বানু কণা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি দুর্যোগ, মহামারি ও দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। পুলিশ সদস্যদের এমন গর্বিত কাজে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
ড্রাইভার আতিক সম্পর্কে ওসি কণা বলেন, আতিক অনেক সাহসী একটা ছেলে। তার স্ত্রীও পুলিশ বাহিনীর সদস্য। সাহসী এমন কাজের জন্য আতিক নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ