তিব্বতি মেয়ে ফুটবল দলের মার্কিন ভিসা নামঞ্জুর

আপডেট: মার্চ ৩, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



একটি তিব্বতি নারী ফুটবল দল জানিয়েছে, তারা টেক্সাসে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার জন্য মার্কিন ভিসার আবেদন করলেও তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে।
তারা আরও জানিয়েছে, তাদের মার্কিন কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার বলে দিয়েছে আমেরিকায় যাওয়ার মতো তাদের ‘যথেষ্ঠ কারণ নেই’!
এই ফুটবলে দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই হলেন ভারতে বসবাসকারী তিব্বতি শরণার্থী, এবং তারা দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে সাতটি দেশের নাগরিকদের আমেরিকা সফরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল – তবে তিব্বতি বা ভারতীয়রা সে তালিকায় ছিলেন না।
টিবেট উইমেনস সকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাসি শিল্ডার্স, যিনি একজন মার্কিন নাগরিক, তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দলের ১৬জন ফুটবলারকে নিয়ে ভিসার ইন্টারভিউয়ের জন্য তিনি নিজে দূতাবাসে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত হতাশ কারণ আমরা গত বেশ কয়েক মাস ধরে এই সফরের পরিকল্পনা করে আসছিলাম। দলের ফুটবলাররাও এই সফরের কথা জানার পর থেকেই মনে করছিল এটা তাদের জীবনে একটা মোড় ঘোরানো মুহুর্ত হতে যাচ্ছে!”
“তিব্বতের মেয়েরাও যে জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে পারে, বাকি দুনিয়াকে সে কথা জানানোর জন্য এটাই ছিল তাদের সুযোগ।”
মিস শিল্ডার্স এ কথা বলতেও দ্বিধা করেননি যে তার দেশ যে একটি মহিলা ফুটবল দলকে ভিসা দেয়নি, তাতে তিনি ‘লজ্জিত’! তবে তিনি পাশাপাশি এটাও জানিয়েছেন যে এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতায় আসার কোনও সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।
“আসলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন তিব্বতিরা আমেরিকায় গেলে ‘অ্যাসাইলাম’ বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন, ফলে তারা চট করে তিব্বতিদের ভিসা দিতে চান না। তাই আমাদের ফুটবলারদের আবেদন খারিজ হয়ে যেতে পারে এমন একটা আশঙ্কা আমার ছিলই!” তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ধাক্কা দলের মনোবলে কোনও চিড় ধরাতে পারেনি বলেই দাবি করেছেন মিস শিল্ডার্স।
এই ফুটবল দলের বেশির ভাগ সদস্যেরই আছে ভারতীয় আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট। তিব্বতি শরণার্থীদের ভারত সরকার এই পরিচয়পত্রই দিয়ে থাকে এবং তা পাসপোর্টের কাজ করে।
দলের দুজন সদস্যের ভারতীয় পাসপোর্টও ছিল। বাকি চারজন ফুটবলার থাকেন নেপালে, তাদের পাসপোর্টও নেপালের।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এই চারজনও মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের আবেদনের পরিণতি কী হল তা তাদের এখনও জানানো হয়নি।
এপি সংবাদ সংস্থাকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বিশেষ কোনও ব্যক্তির ভিসার আবেদন কেন খারিজ হয়েছে সে ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
তবে ওই কর্মকর্তা সেই সঙ্গেই বলেছেন, তিব্বত নিয়ে আমেরিকার অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয় নি-আর সেই অবস্থান হল ‘তিব্বত আজও চিনেরই একটি অংশ হিসেবে স্বীকৃত’।- বিবিসি বাংলা