তিস্তা চুক্তি হতেই হবে: ত্রিপুরার রাজ্যপাল

আপডেট: মে ৫, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দ্রুত সমাধানে জোরালো আওয়াজ তুলেছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়।
তিনি বলেছেন, “নিম্ন অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। আমরা কোনোভাবেই এটা এড়াতে পারি না।”
ত্রিপুরার সোনামুরা জেলায় বক্সানগর প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীর ফাঁকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় একথা বলেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাবেক এই সভাপতি।
বিষয়টি নিয়ে ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা’ থাকলেও শিগগিরই সেগুলোর সমাধান হবে বলে জোর দিয়ে বলেন তথাগত রায়।
“বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা ও অন্য নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টি সমাধান করতে মোদীজী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজ হোক, কাল হোক- এটা ঘটবেই। কারণ এটা দলীয় বিষয় নয়, এটার সঙ্গে সার্বভৌম ভারতের প্রতিশ্রুতি জড়িত আছে।”
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা ও ভারতীয় সেনাদের ঘাতক পাকিস্তানের সঙ্গে যদি সিন্ধু নদের পানি নিয়ে চুক্তি করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মতো দীর্ঘদিনের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশীর সঙ্গে চুক্তিতে রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নাই।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার বিষয়ে বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথাগত বলেন, “ভারতের একটি রাজ্যের রাজ্যপালের সাংবিধানিক পদে থাকার কারণে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারবো না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলি, “নিম্ন অববাহিকা হিসেবে বাংলাদেশকে নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না কোনোভাবেই।”
এপ্রিলে দিল্লিতে মোদী-হাসিনার বৈঠকের পর প্রথম কোনো জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতার কাছ থেকে এরকম জোরালো বক্তব্য এলো।
সাংবিধানিক পদে থাকায় কোনো রাজনৈতিক নেতাকে আক্রমণ না করেও তিনি ইংগিত দেন, মোদীর বিজেপি নেতারা তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বিরোধিতায় নাখোশ।
বাংলাদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথাগত বলেন, “আমরা অবশ্যই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি এদিক-সেদিক করতে পারি। কিন্তু কিভাবে কেউ বলেন যে, বাংলাদেশের জন্য তিস্তায় পানি নেই।”
সন্ত্রাস মোকাবেলা, ভারতবিরোধী বিদ্রোহীদের ছুড়ে ফেলা ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে দেওয়ায় শেখ হাসিনার সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
“মহান বঙ্গবন্ধুর কন্যার প্রতি ভারত চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে, উভয়ই ভারতের বড় বন্ধু। এখন বাংলাদেশ কি চায় তা আমাদের দেওয়ার পালা। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা তাদের অধিকার।”
ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের প্রক্রিয়ায় যারা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চান তাদের আক্রমণ করে তথাগত বলেন, “যারা পাকিস্তানকে খুশি করতে তারাই তিস্তার মতো চুক্তি ভণ্ডুল করতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব কোনো নতুন উচ্চতায় যাক তা পাকিস্তান চায় না।”
‘জয় বাংলা, জয় হিন্দ’ বলে কথা শেষ করেন তথাগত।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ