তীব্র খরায় ঝরছে আমের গুটি, ঠেকাতে সেচ ও পানি স্প্রে পরামর্শ

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৪, ৮:০৮ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:


চলমান খরায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরি ফসল আমের গুটি ঝরে পড়ছে। আম টিকানোর নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের বৃষ্টিতে এ বছর মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় গুটি এসেছিল কম। গাছে যে পরিমাণ গুটি টিকে আছে সেগুলোর বৃদ্ধিও ঠিকমত হচ্ছে না তীব্র খরার প্রভাবে। ঝরে পড়ছে গুটি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, তীব্র খরা থেকে আম বাঁচাতে নিয়মিত দিতে হবে পানি সেচ, প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করতে হবে।

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। পরিমাণেও ছিলো অনান্য বছরের তুলনায় কম। তারপরও শুরু থেকেই বাড়তি যত্নে বাগানগুলোতে মুকুল থেকে আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে আম। তবে ক’দিনের তীব্র খরায় শঙ্কায় ফেলেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। গাছে থাকা আমের গুটির বৃদ্ধি ও টিকে থাকা নিয়ে তারা পড়েছেন চিন্তাায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর এলাকার আমবাগান মালিক রাজন ইসলাম জানান, খরার কারণে আমের গুটির বড় হচ্ছে না। বোটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে।

বৃষ্টি না হওযায় সেচ দিয়েও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। শ্যালো মেশিন যতক্ষণ চলছে ততক্ষণ পানি থাকছে। শ্যালো বন্ধ করার পর পর বাগানে আর পানির দেখা মিলে না। আম ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, এবছর শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা আমের কাক্সিক্ষত ফলন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। চলমান খরায় তাদের সেই চিন্তাকে আরো বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সেচের কারণে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম উদ্যোক্তা ও আম ব্যবসায়ী শামীম খান জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এবছর তীব্র শীতের কারণে দেরীতে মুকুল এসেছিল্। মুকুল আসার পর পরই মার্চ মাসের দু বারের বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে গিয়েছিল। যে সময় গুঠি বড় হওয়ার কথা সে সময় প্রচণ্ড গুটি ঝরে পড়ছে। খরা আরো কিছুদিন চললে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের। এমনিতেই কীটনাশকের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর আম উৎপাদনের খরচ সবক্ষেত্রেই বেড়ে গেছে। আবার এখন সেচ দেওয়ার জন্য অনেকের খরচ আরো বাড়বে। সবমিলিয়ে এবছর একেবারেই স্বস্তিতে নেই ব্যবসায়ীরা। অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে মরদানার আম ব্যবসায়ী রুবেল জানান, এমনতিই গত কয়েক বছর ধরে আমের ব্যবসায় ধরাশায়ী হয়ে আসছি। এবার একেবারে দেয়ালে পিট ঠেকে গেলো। যে বাগানেই যাচ্ছি সে বাগানেই হাজার হাজার শুকানো গুটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে মাথায় হাত উঠাতে বাধ্য হচ্ছি। তবে এখনই অনিরাশ না হয়ে বাগানের সঠিক পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া ও খরা যতদিন চলমান থাকবে ততদিন বাগানে পর্যান্ত সেচ দেওয়া, তাপমাত্রা আরো বাড়লে সকালে বা বিকালে গাছে সরাসারি পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান।

তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় গাছগুলোতে এবার মুকুল কম এসেছে। তবে ছোট গাছে ভালো মুকুল আছে। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা গেলে, কৃষি বিভাগ যে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করছে তার কাছাকাছি অন্তত যাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version