তীব্র শৈত্য প্রবাহের ফলে চরম দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের আলু চাষিরা

আপডেট: January 6, 2020, 1:01 am

দিনাজপুর প্রতিনিধি


তীব্র শৈত্য প্রবাহের কারণে দিনাজপুরে আলুর খেতে মড়ক রোগ দেখা দেয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে আলু চাষিরা। আগাম জাতের আলু চাষ করে কৃষকরা লাভবান হলেও পরবর্তী জাতের আলু চাষ করে লোকসানের বোঝা নিতে হচ্ছে জেলার আলুর চাষিদের। অপরদিকে চাষিদের ভুলের কারণেই খেতে মড়ক রোগ হচ্ছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে। একই সঙ্গে শৈত্য প্রবাহ কমলে আলুর মড়ক রোগ কমবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন। আলুর খেতে মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের সাহায্য করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শস্যের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলা। এই জেলা ধান, গম, ভুট্টাসহ সকল ধরনের শাক-সবজি চাষ করা হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয় এই জেলায় উৎপাদিত পণ্য। ইতোপূর্বে বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয়েছে অনেক কৃষককে। চলতি আমন মৌসুম বাজারে ধানের মূল্য কৃষকরা কিছুটা পেলেও জেলায় আলু রোপন করে বেকায়দায় পড়েছে কৃষকরা। চলতি শীত মৌসুমে টানা কয়েকদিনের শৈত্য প্রবাহের ফলে খেতে আলুর গাছে মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ আলুর খেতে মড়ক রোগ দেখা দেয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে আলু চাষিরা। প্রথম দিকে আগাম আলু চাষ করে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় আলু চাষিরা লাভবান হয়েছিল। সেই আশায় একই খেতে ও আমন ধান কাটার পর সেই জমিতে পরবর্তী জাতের আলু রোপন করেছে। কিন্তু তাদের আশা এখন ফিকে যেতে বসেছে।
দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের আলু চাষি মশিউর রহমান জানান, এবছর বোরো ধান আবাদ করে আমরা খুবই লোকসানের মুখে পড়েছিলাম। এবার আমন ধান উৎপাদন করে যৎ সামান্য লাভ হলেও আলু রোপন করে-তো লাভের থেকে লোকসানই হবে বেশি। আমরা যখন আমন ধান আবাদ করছিলাম সেই সময় আমাদের এলাকার কিছু কৃষক আগাম জাতের আলু চাষ করে খুবই লাভবান হয়েছিল। প্রথম দিকে বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছিল। আমরাতো তাদেরকে দেখে পরবর্তী জাতের আলু আবাদ করতে গিয়ে লোকসানের বোঝা মাথায় নিতে যাচ্ছি। কয়েকদিন ধরে শৈত্য প্রবাহের তীব্র শীতের ফলে খেতের আলুর গাছে মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে। এই রোগের ফলে খেতে আলুর নতুন চারা গাছ মরে যাচ্ছে। আলুর গাছ মরে গেলে তো আমরা অনেক লোকসানের শিকার হবো। কৃষি কর্মকর্তারা আমাদেরকে যেভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে বলছে আমরা সেই ভাবে প্রয়োগ করছিল। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে তো আমরা ভবিষ্যতে কৃষি কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আলু মৌসুমে প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বেশি উৎপাদন হয়েছিল। চলতি আলু মৌসুমে ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু উৎপাদন করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, প্রতি বছর দিনাজপুর জেলায় আলুর মড়ক রোগ দেখা দেয়। তীব্র শৈত্য প্রবাহের ফলে এই রোগটি হয়। কিন্তু এবছর মড়ক রোগের পরিমাণ একটু বেশি। এর জন্য সরাসরি কৃষকরা দায়ী। শৈত্য প্রবাহ যে সময় কম থাকে সেই সময় আলুর আবাদ করতে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা অধিক লাভের আশায় দেরি করে আলুর চাষ শুরু করেছে। এছাড়াও কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতার অনেক অভাব রয়েছে। তাদেরকে পরিমাণমত কীটনাশক প্রয়োগ করা বলা হলেও তারা অত্যাধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে। তীব্র শৈত্য প্রবাহের সময় পরিমাণমত কীটনাশক প্রয়োগ করলে আলুর গাছের মড়ক রোগের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। এছাড়া তীব্র শৈত্য প্রবাহের ফলে লেটব্রাইট রোগ যে সকল আলুর জাতের গাছে রোগ দেখা দেয়, সে সকল আলু আগেই আবাদ করার আহ্বান জানা তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ