তৃণমূলে সংস্কৃতি চর্চার অভাবেই ‘ক্যাসিনো কালচার’: নূর

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


তৃণমূলে সংস্কৃতি চর্চা বেগবান করতে না পারায় বাংলাদেশে এখন ‘ক্যাসিনো কালচার’ গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।
২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার পর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে তৃণমূলে সংস্কৃতি চর্চা বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছিল। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা রকম বাদ্যযন্ত্র সরবরাহ ও স্থায়ীভাবে শিক্ষকও নিয়োগ দিয়েছিল নৃত্য-গীত ও বাদ্য শেখাতে।
তবে আসাদুজ্জামান নূরের সময়ে নেওয়া সে উদ্যোগ যে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, তা স্পষ্ট হয়েছে তার কথাতেই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “সেই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় বলতেন, সংস্কৃতি চর্চাকে তৃণমূলে সন্তানদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা ওই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারিনি বলে বাংলাদেশে আজকে ‘ক্যাসিনো কালচার’ তৈরি হয়েছে। আজকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররা আরেকজন মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করেছে।”
১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলেনের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মঞ্চে তার পাশে বসিয়েছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পল্লীকবি জসীম উদদীন ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মতিন চৌধুরীকে।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “বঙ্গবন্ধু এর মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, রাজনীতিবিদদের দেশ গড়ার কাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানুষগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সেই বার্তাটি হয়ত ভুলে গেছি।”
২০২০ সালে বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে, তখন বঙ্গবন্ধুর এই বার্তাটিকে দেশ ধারণ করবে বলে তার বিশ্বাস।
নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তারই নির্দেশ যদি আমরা ধারণ করতে পারি, বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে এই হত্যাকাণ্ড হবে না, এই ‘ক্যাসিনো কালচার’ থাকবে না। এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
অষ্টমবারের মতো আয়োজিত গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবে ভারতের পাঁচটি দল অংশ নিচ্ছে। নাট্যোৎসবে ভারতের অংশগ্রহণে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী বন্ধন ‘আরও দৃঢ় হবে’ বলে মনে করেন নূর। তিনি বলেন, “আজকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব বিশেষ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তবে দুই দেশের বন্ধুত্ব টেকসই হয়, যখন দুই দেশের মানুষের মধ্যে মৈত্রী গড়ে ওঠে। জনগণের মধ্যে মৈত্রী বন্ধনে সংস্কৃতি হল বড় বিষয়, এর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং এ ধরনের উৎসব যত বেশি হবে, মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব তত সুদৃঢ় হবে।“
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ; এসেছিলেন ভারতের নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্য, ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক নিপা চৌধুরী, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও ঢাকা মহানগরীর ছয়টি মঞ্চে গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উৎসবও আয়োজিত হচ্ছে। তাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ১২১টি দল অংশগ্রহণ করবে। দ্বিতীয় পর্বে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রাঙ্গণে মোর মঞ্চস্থ করে নাটক ‘হাছনজানের রাজা’, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চস্থ করে নাটক ‘পঞ্চনারী আখ্যান’,স্টুডিও থিয়েটার হলে পালাকার মঞ্চস্থ করে ‘উজানে মৃত্যু’। উৎসবের আরেক ভেন্যু বাংলাদেশ মহিলা সমিতি হলে লোক নাট্যদল (বনানী) পরিবেশন করে ‘কঞ্জুস’।-বিডিনিউজ