তৃতীয় দফাতেও ইজারা হলো না ফেরিঘাট

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পদ্মা নদীর ফেরিঘাট ইজারায় চড়া মূল্যের কারণে তৃতীয় দফার ডাকেও অংশ নেন নি ইজারদাররা। এবার চতুর্থদফা ইজারার প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে দর না কমালে, এতো চড়া মূল্যের টেন্ডারে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইজারার দাম কমানো তাদের এখতিয়ারে নেই।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার পদ্মা নদীর তালখাম্বা ও ভাগরথী ফেরিঘাট আগামী বছরের জন্য ইজারা প্রদানের দরপত্র আহবান করা হয় গত মাসে। তবে দরপত্রের শর্তানুযায়ী অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের কারণে প্রথমদফায় কোনো ইজারাদার অংশ নেন নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর সর্বশেষ দরপত্র জমার তারিখ ছিলো ১৬ মার্চ।
সেই সময়েও কেউ অংশ না নিলে তৃতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২ এপ্রিল পর্যন্ত টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ সময় ছিলো। ৩ এপ্রিল টেন্ডার ওপেন করার কথা ছিলো। কিন্তু এবারো টেন্ডার আহ্বানে কেউ অংশ নেন নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি ফেরিঘাটের ইজারা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইজারাদাররা জানান, চলমান ইজারা মূল্যের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি দামে ইজারা মূল্য নির্ধারণ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহীতে এসে সাংবাদিকদের ইজারাদাররা বলেন, বর্তমান মূল্যের চেয়ে আগামী বছরের জন্য অনেক চড়া দর নির্ধারণ করে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ওই মূল্যে ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে কোনভাবেই সে টাকা তোলা সম্ভব নয়। তাই অনীহা প্রকাশ করেছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ভাগরথী ফেরিঘাটের ইজারাদার আজিমুদ্দিনসহ সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ২০১৬ সালে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায় ঘাটটি ইজারা নেয়া হয়েছিল। চলতি বছর ঘাটটির ইজারা মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। আর তালখাম্বা ঘাটটির ইজারা মূল্য ছিল ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু আগামী মৌসুমের জন্য তালখাম্বা ঘাটের জন্য ৭৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আর ভাগরথী ঘাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ৫৯ লাখ টাকা নিধারণ করে। এক বছরের ব্যবধানে এতো টাকা বৃদ্ধিতে ইজারাদারা দরপত্র কিনছেন না বলে জানান তিনি।
ইজারাদার আজিমুদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় পদ্মা নদীর ওপারে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসতি রয়েছে। সেসব মানুষ প্রয়োজনে নদী পার হয়ে শহরে আসেন। কয়েক বছর আগে ঘাটগুলো পরিত্যক্ত ছিলো। ইজারা নেয়ার মতো কেউ ছিল না। স্থানীয়রা লোক পারাপারের ব্যবস্থা করতো। কিন্তু ভারত থেকে গরু আসার কারণে ঘাটগুলোর গুরুত্ব ও মূল্য বাড়তে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি গরু পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে সমস্যায় পড়েছেন বর্তমান ইজারদাররা।
আজিমুদ্দিন জানান, এতো বেশি দামে ঘাট ডেকে নিয়ে অর্থ উঠানোই সম্ভব হবে না। তালখাম্বা ফেরিঘাটের সাবেক ইজারাদার ইসমাইল হক বলেন, ২০১৫ সালে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ঘাটটি নিয়েছিলেন তিনি। তাতে লোকসান হওয়ায় ২০১৬ সালের তিনি এ ঘাটটি ছেড়ে দেন। এবার ইজারা নেয়ার ইচ্ছে থাকলে সম্ভব হচ্ছে না। এতো বেশি দামে ঘাট ডেকে নিয়ে কোনোভাবেই লাভ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতে খায়ের হোসেন শামীম জানান, সমন্বয় সভায় ফেরিঘাটের ইজারার দর নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় দফা ডাকের মেয়াদও শেষ। এরপরও কেউ অংশ নেন নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আর তাছাড়া কোনো ইজারাদার টেন্ডারে অংশ না নিলে সরকারীভাবে (খাস) কালেকশন করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ