ত্রাণবিতরণ ও বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম করলে ছাড় নাই: নওগাঁ জেলা প্রশাসক

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ-সোনার দেশ

ত্রাণ বিতরণ ও বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম করলে তার কোনো ছাড় নাই জানান- নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরো বলেন, করোনা দূর্যোগের সময় সরকার খেটে খাওয়া দিন মজুরদের জন্য যে অনুদান দিয়েছেন তার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কর্মহীনদের আগে অগ্রাধিকার দেয়া এবং তাদের খাদ্য নিশ্চিত করা হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ভলেন্টিয়ারদের সমন্বয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। তবে বাছাই ও বিতরণে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয় তাহলে কারও ছাড় নাই।
তিনি জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কর্মহীন মানুষদের সহায়তায় সরকারিভাবে নওগাঁ জেলায় মোট ৫৪১ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই ১২৫ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে হোম কোয়ারেনটাইন মেনে না চলায় ১৭টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এমন ২৬ জনের মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা, সামাজিক দূরত্ব বজায় নিয়ম মেনে না চলার কারণে ২৫টি মোবাইল কোর্টে মোট ৬৬ জনের বিরুদ্ধে ৬১ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক দ্রব্যমূল্যে আদায়ের কারণে ১৫টি মোবাইল কোর্টে ২৫ জনের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রানার গ্রুপের কাছ থেকে ২ হাজার পিস পিপিই পাওয়া গেছে। এরমধ্যে এ সভায় ১ হাজার পিস পিপিই নওগাঁর সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছ হস্তান্তর করেছে। এ সময় ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম এমপি, পুলিশ সুপার বিপিএম প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া, নওগাঁ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোমিনুল হক এবং সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলার কর্মরত সাংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ জেলায় গত ৭২ ঘণ্টায় আর নতুন করে হোম কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হয় নি। তবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৭৮ জনকে হোম কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০২ জনকে ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন ৩৭৬ জন। হোম কোয়ারেনটাইন থেকে মুক্ত হয়ে তারা সবাই সুস্থভাবে জীবনযাপন করছেন। এদের কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় নি।