ত্রিমুখি সঙ্কটের মুখে বিশ্ব যুদ্ধের অভিঘাত থেকে পরিত্রাণ চাই

আপডেট: মে ২৫, ২০২২, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব এই মুহূর্তে ত্রিমুখি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পৃথিবীকে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেয়। ২৪ মে পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ১ হাজার ৭১৯ জনে। আর করোনা শনাক্ত রোগী বেড়ে ৫২ কোটি ৮২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৩ জন হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, করোনা অনেকটাই দুর্বল হয়ে থিতু হতে শুরু করেছে। তবুও করোনার চোখ রাঙানি থেমে যায়নি। এর ওপর ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-এর মত রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছেÑ যা বিশ্বকে নতুন সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরেক বালাই বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছে, তা হল- ‘মাঙ্কিপক্স’। এটার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই মাঙ্কিপক্স-এর ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পৃথিবীর অনেক দেশ খাদ্য ঘাটতির মধ্যে পড়েছে। যুদ্ধের আপাত অবসান না হলে করোনার মত বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে যে, খাদ্যসঙ্কটের মুখে পড়তে চলেছে বিশ্ব। তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে আসছে এ রকমই তথ্য। সমীক্ষায় দাবি, ২০২০ সাল থেকে কোভিডের প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। পাশাপাশি কমেছে চাষাবাদ থেকে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদনও। জলবায়ু পরিবর্তন এবং একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে চাষাবাদ মার খেয়েছে। তাই সারা বিশ্ব ইতোমধ্যেই খাদ্যসঙ্কটের সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির কারণে বিশ্ব সবে মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর পর পরই চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়্-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধ সারা পৃথিবীতে খাদ্যসঙ্কটের সম্ভাবনা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
তবে আশা জাগাচ্ছে বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও খাদ্যসরবরাহ চ্যানেলগুলো চালু রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে উঠছে। রুশ আক্রমণে ইউক্রেনের প্রধান সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে নির্ভরতা বাড়ছে দেশটির। গত এপ্রিলে যেখানে ১০ লাখ টন শস্য রপ্তানি করেছিল ইউক্রেনীয়রা, চলতি মাসে তার পরিমাণ বেড়ে ১৫ লাখ টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের বাস্তবতা। খাদ্যপণ্য ও ভোজ্যতেলের দামে কিছুটা উর্দ্ধগামিতা লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু সেটা আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভারত থেকে গম আমদানি শুরু হয়েছে। যা কিছুদিন আগেও নিষিদ্ধ ছিল। অন্যদিকে তিন সপ্তাহ পর পাম তেলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্যকর হবে। ফলে ভোজ্য তেলের বাজারও স্থিতিশীল হবে। তদুপরি বিশ্বকে সঙ্কট থেকে মুক্ত করতে হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আশু অবসান হওয়া জরুরি। বিশ্ব নেতৃত্ব তাদের স্বার্থ এবং আধিপত্যে লাগাম টেনে ধরলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিশ্বের মানুষ অনিশ্চয়তা ও বিড়ম্বনার কবল থেকে মুক্তি পাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ