ত্রয়ী : বিদ্যাসাগর-বিশ্বকবি-বঙ্গবন্ধু

আপডেট: September 5, 2020, 11:56 pm

গোলাম কবির


বিদ্যাসাগর-বিশ্বকবি-বঙ্গবন্ধু মানবহিতৈষী এই ত্রয়ী বাঙালির কর্মধারা এবং মানস-পরিক্রমা মিলিয়ে দেখলে আমরা আমাদের ভাগ্যবান ভাবতে শ্লাঘা বোধ করি। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের শোকাবহ ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত এর পটভূমি বিস্তৃত। একালে দ্রুত সমাজ পরিবর্তনের ধারায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙলার শ্যামল অংগে আবির্ভুত হয়েছেন। এঁরা তিনজনই যেন মানবমুক্তির পতাকা হাতে পথে নেমেছেন। পারত্রিক মোক্ষলাভ অপেক্ষা ইহজাগতিক মানবধর্মকে এঁরা বড়ো করে দেখেছেন। আমরা এই ত্রয়ী বাঙালিশ্রেষ্ঠের মানবকেন্দ্রিক কর্মধারা মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবো।
বিদ্যাসাগরের ‘অক্ষয় মনুষ্যত্ব’ এবং ‘অজেয় পৌরুষ’ রবীন্দ্রসৃষ্টিধারাকে সঞ্জীবনী দান করেছে। বঙ্গবন্ধু এঁদের নিষ্ঠ উত্তরসাধক। তবে অনন্য।
১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সে সেপ্টেম্বর মেদিনিপুরের বীরসিংহ গ্রামে এক তেজস্বী ব্রাহ্মণ পরিবারে বিদ্যাসাগরের জন্ম। ঈশ্বরচন্দ্র কিভাবে বিদ্যাসাগর হয়ে উঠলেন! তার বিস্তৃতিতে আমরা যাব না। নিতান্ত প্রতিকূল পরিবেশে ‘যথার্থ মানুষ’ হিসেবে মানবকল্যাণে তার নিবেদনের বিষয়টি কেবল দূর থেকে চেয়ে দেখবো।
২০২০ বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করে চলেছি আমরা। এঁদের মাঝখানে অবিভক্ত ভারতের অতৃতীয় মানববাদী কবি রবীন্দ্রনাথকে সংযোজক রেখে ফিরে দেখবো আমাদের গর্বিত ইতিহাস।
বিদ্যাসাগর জন্মের পর দেখে এসেছেন ঠাকুরমাকে চরকায় সুতো কাটতে, দেখেছেন পিতামহ রামজয় তর্করত্নকে দীর্ঘ লাঠি হাতে সত্যিকার মানুষ খুঁজে বেড়াতে, চতুষ্পাঠীতে বিদ্যা আহরণের বর্ণনাতীত কসরত, কৃষকদের উদয়াস্ত শ্রম আর সর্বোপরি বিধবাদের দুঃসহ জীবন-যাপন। পিতামহ কথিত ‘এঁড়ে বাছুর’ ঈশ্বরচন্দ্রের শৈশব কেটেছে উন্মুক্ত জীবন-মঞ্চ বীরসিংহে। নিত্যসংগী দারিদ্রকে পায়ে ঠেলে মাত্র ৯ বছর বয়সে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন তিনি। কলকাতার সিংহপরিবারের রাইমনির অশেষ স্নেহে সিক্ত হয়ে তিনি নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধে উজ্জীবিত হন। জীবনের সূচনা থেকে মানুষ তার চেতনায় ভর করে আছে। তখনকার দিনের অনেক বেশি টাকা বেতনের চাকরির মোহ তুচ্ছ করে তিনি মানব কল্যাণে ব্রতী হন। ব্যক্তির সমৃদ্ধির ভাবনা অপেক্ষা সমষ্টির উন্নয়ন এবং প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চরিত্রের ‘অক্ষয় মনুষ্যত্বে’র পরিচিতি। চাকরি বাদ দিয়ে জীবন-জীবিকা কেমন করে চলবে, প্রশ্ন করা হলে আত্মপ্রত্যয়ী বিদ্যাসাগর অসংকোচে বলেছিলেন, আলু-পটল বেচে খাবেন। তাঁকে তা করতে হয়নি। শিশু শিক্ষার বর্ণ পরিচয় বইখানা নাকি তাঁর জীবদ্দশায় প্রায় শতবার মুদ্রিত হয়েছিলো। সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের বেশির ভাগ তিনি জনকল্যাণের জন্য নির্ধারিত রাখেন। বাদুড় বাগানে একখানা বড়ো বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে বেশিরভাগ আশ্রিতরাই থাকতেন। মানবকল্যাণ ব্রত ছিলো তাঁর প্রধান চিন্তা। নারীশিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে তিনি তা কার্যকর করতে চেয়েছিলেন। বিধবার দুঃসহ যন্ত্রণার প্রতিবিধান করতে গিয়ে বিরুদ্ধ সমাজের সাথে লড়েছেন। নিজের ছেলের বিধবার সাথে বিয়ে দিয়ে ‘আপনি আচরি’ কর্মসাধনার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর আগে বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যে বিধবার বিয়ে দিয়ে শাস্ত্রাচার আর সংস্কারের কাছে নত হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ হার মানেন নি। ১৩২৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত ‘পলাতকা’ কাব্যের ‘নিষ্কৃতি’ কবিতায় বিধবা মঞ্জুলিকার পুলিন ডাক্তারের সাথে বিয়ে দিয়ে ফারাক্কাবাদে সুখের নিবাস গড়ারই সুযোগ করে দেননি, নিজের ছেলে রথীন্দ্রনাথের বিয়ে দেন বাল্যবিধবা প্রতিমা দেবীর সাথে (২৭-০১-১৯১০)। কথায় কথায় আমরা ধারাচ্যুত হয়েছিলাম। আবার ফিরে আসি বিদ্যাসাগরে। বিদ্যাসাগর শাস্ত্র ও সংস্কারের অমানবিক লোকাচার এড়িযে চলতেন। তিনি জাতি ধর্মের চেয়ে মানুষের পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। মতবাদী সেজে প্রচারে নামেন নি। অমৃত্যু মানব মুক্তির দুর্গম পথে হেঁটেছেন। সমাজ-কথিত ব্রাত্য জনের মাঝে কর্মাটাডে জীবনের শেষ দিনগুলি কাটাতে চেয়েছেন।
বিদ্যাসাগরের জীবদ্দশায় বিশ্বকবির আবির্ভাব একেবারে ভিন্ন পরিবেশে। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির কোলাহলমুখর যৌথ পরিবারে। জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই মে (২৫ শে বৈশাখ)। তিনি ছিলেন সারদা দেবী ও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। একদা ভারতবর্ষের দাস আমলের শাসনের মত রবীন্দ্রনাথকে ভৃত্যমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠতে হয়েছে। সে-সব কৌতুকপ্রদ স্মৃতিচারণ আছে ‘আমার ছেলেবেলা’ এবং ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থে। লেখাপড়া যথেষ্ট করেছেন; কিন্তু তথাকথিত ডিগ্রির বোঝায় নিজেকে ভারাক্রান্ত করেন নি। মানুষের সান্নিধ্য বুভুক্ষু রবীন্দ্রনাথ পূর্ববাংলায় এসে সাধারণ মানুষের সন্ধান পেলেন। ‘হৃদয় আমার ক্রন্দন করে মানব হৃদয়ে মিশিতে’ বলে কবির আক্ষেপ প্রশমিত হবার পথ প্রশস্ত হলো। যুগযুগ লাঞ্ছিত মানুষের জন্য করণীয় সম্পর্কিত ভাবনা তাঁকে নিয়ে গেল মানুষের দোর গোড়ায়। রাজশাহীবাসী গর্বিত যে মানবমুখিতার ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবিতাটি এখানেই রচিত এবং এখান থেকে তিনি মানব সংশ্লিষ্টদের পথ অনুসরণ করেন। এরপর সে ভাবনা থেমে থাকেনি। একালেই লিখেছেন ‘আত্মশক্তি’ যেখানে গ্রামীণ জনপদের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দিক নির্দেশনা আছে। একালে পতিসরে এসে তিনি ‘সবহারাদের’ আপন করে পান। পত্রে ইন্দিরা দেবীকে লেখেন, পতিসরে আসলে তাঁর মনে হতো তিনি যেন প্রবাস থেকে ঘরে ফিরেছেন। এসব মানুষের জীবন চিত্র কবিতা-গদ্যে চিত্রিত করতে গিয়ে পিতৃ-মাতৃহীন দুই কিশোরীকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা বিরল দৃষ্টান্ত। এরা ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পের রতন আর ‘মাল্যদান’ গল্পের কুড়ানি। জগতের সকল সুখ বঞ্চিত রতন পোস্টমাস্টার দাদাবাবুর গল্পে গল্পে কলকাতার স্বপ্ন বুনেছিলো মনে মনে। সে স্বপন ছাই হয়ে গেছে। কল্পনার চোখে তাকে উলাপুরের পোস্ট অফিসের চারপাশে বিভ্রান্তের মত যেন দেখতে পায় সংবেদনশীল মানুষ। এক দুর্ভিক্ষের দিনে মৃত মাতার পাশে কুড়ানিকে কুড়িয়ে এনেছিলো পটল। তাকে কৌতুক করে ডাক্তার ভাই এর বৌ করবে বলে অবান্তর স্বপ্ন দেখানো হয়েছিলো। সেই স্বপ্নের ঘোরে আর এক মহামারির দিনে নিঃশব্দে সে চলে গেল। রবীন্দ্রনাথ এসব চিত্র একেই ক্ষান্ত হন নি। অভাবগ্রস্ত কৃষকের কষ্ট লাঘবের জন্য ১৯০৫ সালে ‘কালিগ্রাম কৃষি ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯১৬ সালে ৫৭৫৯৫ টাকা খাজনা মওকুফ করে দেন। অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য চিকিৎসা ব্যবস্থা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ইত্যাদির ব্যবস্থা করে মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োগ করেন। উদ্দেশ্য মানুষ স্বাবলম্বী হবে এবং হবে আত্মশক্তিতে বলীয়ান। বিদ্যাসাগরের শিক্ষা প্রসার ও সংস্কার মুক্তির প্রবর্তনা রবীন্দ্রনাথকে অনুপ্রাণিত করেছিলো বলে তার ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ পড়া বাংলা ভাষার শক্তি বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। যৌবনের ঊষালগ্নে মানবের মাঝে বেঁচে থাকার আগ্রহ তাঁর ফুরায় নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বুঝেছেন আগ্রাসী শাসনের বিষফল। তাই ‘প্রান্তিক’ কাব্যে ২৫-১২-১৯৩৭ বলে গেলেন: ‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস,/শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাসÑ/বিদায় নেবার আগে তাই ডাক দিয়ে যাই/ দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে/ প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে/’ সেই প্রস্তুত হওয়া আকাশ ছোঁয়া উন্নতশির বঙ্গবন্ধুর আগমন ঘটেছে ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ, রবীন্দ্রতিরোধানের কুড়ি বছর আগে। জানতে পারলে তাকেই হয়তো সভ্যতার সংকটের সেই ‘পরিত্রাণ কর্তা’ হিসেবে চিহ্নিত করে যেতেন রবীন্দ্রনাথ।
সজল-শ্যামল টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া ‘খোকা’ নামের শিশুটি কৈশোর বেলা থেকেই প্রমাণ করে আসলেন তাঁর ব্রত হবে মানবমুক্তির সংগ্রাম। কে জানে, অলখিতে হয়তো মধুসূদন কথিত বিদ্যাসাগরের বাঙালি জননীসুলভ হৃদয় আর জীবনকেন্দ্রিক রবীন্দ্রকর্মধারার উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন কিনা বঙ্গবন্ধু।
শীতার্তকে নিজের গায়ের চাদর খুলে দেয়া, অভাবগ্রস্ত মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির বিশেষ অবলম্বন হয়ে ওঠা, খেলার মাঠে বন্ধু বান্ধবদের খেয়াল রাখা, স্কুলের দুরবস্থা নিরসনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা নয় স্বয়ং মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ উত্থাপন, কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র-সংসদের নেতৃত্বদান, ‘৪৩ এর দুর্ভিক্ষে লঙ্গরখানা খোলা, দাঙ্গায় মানুষের প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করা। এখানেই শেষ নয় ঢাকায় এসে সাধের পাকিস্তানের অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি) ব্যক্তিগত ছাত্রত্বের অধিকার হেলায় ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের বীজমন্ত্র মাতৃভাষার দাবির আন্দোলনে শামিল হয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে গড়ে তোলার অনুশীলন শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর মন্ত্রিত্ব পরিত্যাগ করে দল তথা দেশের কল্যাণে সার্বক্ষণিক নিজেকে নিয়োজিত রেখে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পথ তৈরি করেন। পাকিস্তানি জান্তারা জেল-জুলুমে তাঁকে নিস্তদ্ধ করতে নানা কূটকৌশল করেছে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে তাঁর জীবন সংহারে প্রবৃত্ত থেকেছে। সচেতন ছাত্র জনতা তাকে মুক্ত করে ২৩-০২-১৯৬৯ তারিখে ‘বঙ্গবন্ধু’ অভিধায় ভূষিত করে।
রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাসাগর চরিত্রের বড় গৌরব হিসেবে দেখেছিলেন তাঁর ‘অজেয় পৌরুষ’। তেমনি শোষিত নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর অনমনীয় পৌরুষ তাঁকে ‘৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় পুরস্কৃত করে। পাকিস্তানি জান্তা জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করতে হাজার হাজার নিদ্রিত জনতাকে হত্যা করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছক আঁকতে থাকে। তাঁর অবর্তমানে সেই ‘বঙ্গবন্ধু’ অভিধার মহিমাকে হৃদয়ে লালন করে বাংলার মুক্তিপাগল কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা দেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাঙালি পুলিশ, সীমান্তরক্ষী আর সেনাবাহিনী মিত্র বাহিনীর সহায়তায় নয় মাসে দেশকে হানাদার মুক্ত করে। পাকিস্তানি কারাগার থেকে ফিরে এসে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে মাত্র সাড়ে তিনবছর সময়ের মধ্যে মানবমুক্তির পথে নিয়ে আসার শেষ প্রান্তে তাঁকে দেশিবিদেশি চক্রান্তকারীরা প্রায় সপরিবরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। অবৈধ জান্তারা বিমূঢ় হতবাক দেশবাসীর সামনে বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়েও মানবমুক্তির সর্বত্যাগী বঙ্গবন্ধুর অবদানকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি।
বিদ্যাসাগরকে প্রগতিবিরোধীরা, রবীন্দ্রনাথকে অতি আধুনিক ও সাম্প্রদায়িক এবং বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা বিরোধী আর নব্য বিজ্ঞানওয়ালারা কম বিব্রত করেনি। তবুও তাঁরা ইতিহাসের পাতায় তারকা চিহ্নিত ব্যক্তিত্ব।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অতীব সংক্ষিপ্ত পরিসরে বাংলার তিন ক্ষণজন্মার মানবমুক্তির ধারা পরিক্রমণ করা গেল। দেখা গেল, বিদ্যাসাগর শিক্ষার মাধ্যমে, সমাজ সংস্কারের ভেতর দিয়ে কূপমণ্ডূকতা দূর করার জন্য প্রাণপাত করে গেছেন। সেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি স্থান পায়নি। রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাসাগর প্রদর্শিত পথে অগ্রসর হয়ে মূঢ় মূক মানুষের মুখে প্রতিবাদের ভাষা তুলে দিয়ে তাদের মুক্তির পথে নিয়ে আসতে চেয়েছেন। কোনো মতবাদ তাঁকে আক্রান্ত করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু সেই পথের এক অবিনশ্বর নাম। বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথের মানসমণ্ডলের অবিমিশ্র উত্তরাধিকার।
কেবল বাঙালি নয় মুক্তিকামী বিশ্ববাসী যাঁদের নিয়ে গর্ব করতে পারেন, তাঁদের কীর্তির যৎকিঞ্চিৎ স্মরণ করে নিজেদের ধন্য মনে করছি আমরা।
লেখক: সাবেক শিক্ষক, রাজশাহী কলেজ