থানা হেফাজতে আত্মহত্যার দায় দায়িত্বহীনতার জন্য ব্যবস্থা হয় কি?

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২০, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

গ্রেফতার আসামি থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করলে পুলিশ এর দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। সোমবার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ফুল দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। থানা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের কেই দোষি সাব্যস্থ হলে তার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে পুলিশ ওই আসামীর মৃত্যু- প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে করছে। তবে বিএফডিসির সব শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এ জন্য তারা আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির ফাঁসি পর্যন্ত দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তবে ডিএমপি কমিশনার একটা কঠিন সত্যকে স্বীকার করে নিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামী থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করলে তার দায় পুলিশ এড়াতে পারে না। যিনি যে কাজে দায়িত্ববান সেই কাজে অসঙ্গতি কিংবা ব্যর্থ হলে অবশ্যই তার দায় দায়িত্বশীলেরই। এটাই স্বাভাবিক হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে সেটা আর লক্ষ্য করা যায় না বললেই চলে। দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব কীভাবে এড়াবেন বরং সেই পথ তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরজন্য অনৈতিক কাজ করতে হলেও দ্বিধা করে না। এটাই সমাজ চিত্র। দায়িত্বশীল হবেন অথচ কর্তব্য অবহেলা কিংবা বিচ্যূতির দায় নিবেন নাÑ এটাই এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন আসামী আত্মহত্যা করবে- আর দায় নেবে না পুলিশ তাকি হয়? পুলিশ হেফাজতে নেয়ার অর্থই হলো ধৃত ব্যক্তি আইনের সুরক্ষায় এলো। এই সুরক্ষা বিঘ্নিত হলে দায় তাদেরই যারা হেফাজতে নিয়েছে। ডিএমপি কমিশনার যদিও দায় স্বীকার করে নিয়েছেন, কিন্তু দায়িত্বহীনতার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদৌ কী ব্যবস্থা নেয়া হয়- সেটা অবশ্য জানা যায়নি। এটাও পরিষ্কার করা উচিৎ যে, দায় এড়ানোর জন্য ব্যবস্থাটা কীভাবে, কত গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে। এটা নিশ্চিত উপায়ে কার্যকর করা গেলে থানা হেফাজতে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোও সম্ভব হবে। দায়টা এড়িয়ে যাওয়া হয় বলেই থানা হেফাজতে আসামীদের ওপর নানা নিপীড়নের ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাই শুধু দায় স্বীকার করে নিলেই দায়িত্বটি শেষ হয়ে যায় নাÑ বরং দায় এড়ানোর জন্য কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো এবং সেটা গ্রহণযোগ্য উপায়ে হলো কি না- সেটাও বিবেচ্য বিষয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ