দক্ষিণ আফ্রিকার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত অস্ট্রেলিয়া

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
লজ্জা, দুঃস্বপ্ন, ট্র্যাজেডি, বিধ্বস্ত-কোন শব্দটা ঠিক মানাবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য? লজ্জা তো বটেই, দুঃস্বপ্নের জন্ম দিয়ে ট্র্যাজেডির শিকারও তো হলো তারা। আর বিধ্বস্ত, ইনিংস ও ৮০ রানের হারকে আর কী বলবেন!
হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার কথাই বলা হচ্ছে। যারা এখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যাদের দাপটে তুড়িতে উড়ে যেত প্রতিপক্ষ। ওয়ানডে কিংবা টেস্ট-ক্রিকেটের চূড়ায় থাকাটা যাদের শোভা পায় সব সময়। সেই অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে একের পর এক লজ্জার মুহূর্তের জন্ম দিচ্ছে। আসলে বলা উচিত তাদের লজ্জা দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা এমনই দাপট দেখাচ্ছে যে, হোবার্ট টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের ১৬টি আউট হয়েছে একক-অঙ্কে! ৩২৬ রান করেও তাদের ব্যাট করতে হয় নি দ্বিতীয় ইনিংসে। তার আগেই প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় ১৬১ রানে। তাতে ইনিংস ও ৮০ রানের জয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চিত করল সিরিজটাও।
পার্থ টেস্ট হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া হোবার্টকে। ঘরের মাঠ, চ্যালেঞ্জ জয় করার সব অস্ত্রই ছিল হাতে। কিন্তু ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপ দেখে কে বলবে নিজের মাঠে খেলছে তারা। উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান-বোলারদের দাপট দেখলে মনে হতে পারে ঘরের মাঠে খেলতে তারাই। আসলে সফরকারীরা কাজের কাজটা করে রেখেছিল প্রথম ইনিংসে। যখন ৮৫ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে নিজেরা স্কোরে জমা করেছিল ৩২৬ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য সত্যিকার অর্থেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার জো বার্নস দ্রুত ফিরে গেলেও দাঁড়িয়ে যায় ডেভিড ওয়ার্নার ও উসমান খাজা। ওয়ার্নার ৪৫ রান করে আউট হলেও খাজাকে সঙ্গে করে তৃতীয় দিন পার করে দেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। চতুর্থ দিন শুরু করেছিল তারা ২ উইকেটে ১২১ রান নিয়ে। কে জানত দিনের শুরুতে তাদের জন্য অপেক্ষা করলে লজ্জার মহাসাগর। ২০ ওভারের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া, ৩২ রান নিতে হারায় শেষ ৮ উইকেট। কার চেয়ে কে খারাপ খেলেছে, সেটার ব্যাখ্যা দেওয়াটা কঠিনই। দিনের শুরুতে খাজাকে ৬৪ রানে আউট করা কাইল অ্যাবটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান স্মিথও (৩১)। প্রোটিয়া এই পেসারই অস্ট্রেলিয়াকে গুড়িয়ে দিতে দিয়েছেন নেতৃত্ব। ৭৭ রান খরচায় তার উইকেট ৬টি। যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন কাগিসো রাবাদা, ৩৪ রান দিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট- অ্যাবটের হাতেই মানায় ম্যাচসেরার পুরস্কার।  অস্ট্রেলিয়াকেও একটা ‘পুরস্কার’ দিতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, তা হলো হোয়াইটওয়াশ! ২-০ করার পর এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ করাটা কী খুব কঠিন! ক্রিকইনফো,বাংলা ট্রিবিউন