দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৯ লাখ শিশু তীব্র রুগ্নতার শিকার হবে

আপডেট: July 28, 2020, 10:40 pm

সোনার দেশ ডেস্ক


করোনা মহামারির আর্থ-সামাজিক প্রভাবের কারণে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী বাড়তি ৩৯ লাখ শিশু তীব্র রুগ্নতার শিকার হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল–ইউনিসেফ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
ইউনিসেফের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৬৭ লাখ শিশু তীব্র রুগ্নতার শিকার হতে পারে এবং এর অর্ধেকেরও বেশি (৫৮ শতাংশ বা ৩৯ লাখ) হতে পারে শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই।
তীব্র রুগ্নতা হচ্ছে অপুষ্টির এমন একটি রূপ যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি শিশুদের খুব রুগ্ন ও দুর্বল করে দেয়। এটি তাদের মৃত্যু, সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ না হওয়া এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে।
ইউনিসেফের মতে কোভিড-১৯ মহামারির আগেও ২০১৯ সালে ৪ কোটি ৭০ লাখ শিশু তীব্র রুগ্নতায় ভুগেছে, যাদের মধ্যে ১৭ লাখ শিশুর বসবাস বাংলাদেশে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এ বছর বিশ্বব্যাপী তীব্র রুগ্নতায় ভোগা শিশুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিকভাবে শিশুদের তীব্র রুগ্নতায় ভোগার হার এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা এই শতাব্দীতে আর দেখা যায়নি।
ল্যানসেটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এর আর্থ-সামাজিক প্রভাবের কারণে নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশগুলোতে এ বছর পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের মাঝে তীব্র রুগ্নতার প্রাদুর্ভাব ১৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর হার এত উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে— বাংলাদেশে তীব্র রুগ্নতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২০১৯ সালের ১৭ লাখ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ১৯ লাখ হবে।
মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে নানাবিধ জটিলতা নিয়ে তীব্র রুগ্নতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ভর্তির হার কমে হয়েছিল কেবল ১০ শতাংশ। যদিও অপরিহার্য পুষ্টি সেবাসমূহ পুনরায় চালু হতে শুরু করেছে, তবে এসব সেবা এখনও তাদের যথাযথ সক্ষমতায় ফিরে যায়নি। মহামারি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ২০২০ সালের জুনে হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল ৫৬ শতাংশ।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেছেন, অপুষ্টি মা ও শিশুদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যে সংকট পরবর্তী বহু প্রজন্ম পর্যন্ত জারি থাকতে পারে। অপরিহার্য পুষ্টি পরিষেবাগুলো যাতে সম্পূর্ণ সচল থাকে এবং বাবা-মায়েরা যাতে তাদের শিশুদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে নিরাপদ বোধ করে তা নিশ্চিত করতে বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
বাংলাদেশে অপরিহার্য পুষ্টি সেবাসমূহের ধারাবাহিকতা উন্নয়নের জন্য ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট বাড়াতে, তীব্র রুগ্নতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে, ছোট শিশুদের উন্নত খাবার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে ইউনিসেফ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতা দেয়।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ