দক্ষিণ কোরিয়ায় নিম্ন জন্ম হারের নতুন রেকর্ড

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪, ৩:২৯ অপরাহ্ণ


সোনার দেশে ডেক্স :দক্ষিণ কোরিয়া আগে থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে দেশটিতে এতো কম শিশু জন্মগ্রহণ করেছে যে নিম্ন জন্মহারের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
সেই সঙ্গে ২০২৩ সালেও দেশটিতে মোট জনসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছর দেশটিতে মোট জনসংখ্যা হ্রাস পেলো।

শিশু জন্মহার হ্রাস মানে দেশে শ্রমশক্তির হ্রাস এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। যে কোনো দেশের অর্থনীতিতেই জনসংখ্যার এই পরিসংখ্যান নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশে জন্মহার বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সরকারের সব প্রচেষ্টাই এখন পর্যন্ত ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
শিশু জন্ম ও নারী প্রজনন হার নিয়ে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ পায়।

২০১৮ হতে দক্ষিণ কোরিয়াই দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এর একমাত্র সদস্য যাদের নারী প্রজনন হার ১ এর নিচে। এ পরিস্থিতিতে জন্মহারের নিম্নগতি আটকাতে জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে দেশটির সরকার। ২০২৩-এর ডিসেম্বরে সরকার থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অসাধারণ কিছু ব্যবস্থা’ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

এ বছর এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের জন্য আরো বাসস্থান এবং আরো সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যাতে জন্মহার হ্রাসের প্রবণতা আটকে দেয়া যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজ ব্যবস্থায় বিয়েকে সন্তান জন্মদানের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয়। সেখানে শিশু জন্মহার হ্রাসের পাশপাশি তরুণদের মধ্যে বিয়ে করার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয় এবং অস্বাভাবিক দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে দায়ী করা হচ্ছে। নারীদের ঘর-বাহির দুটোই সামলাতে হয় বলে তাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানে অনাগ্রহ বাড়ছে।

২০২২ সালে জাপানে জন্মহার রেকর্ড হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ২৬ হয়। চিনে ছিল আরো কম, ১ দশমিক ০৯। যা দেশটিতে নতুন রেকর্ড।
দক্ষিণ কোরিয়াতে গত বছর সবচেয়ে কম জন্মহার ছিল রাজধানীর সিউলে, ০ দশমিক ৫৫।
এ বছর দেশটিতে জন্মহার আরো কমে ০ দশমিক ৬৮ এ নেমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ