দমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি ছিল’

আপডেট: মে ১৭, ২০২৪, ৫:০৬ অপরাহ্ণ

বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ। ছবি: মো. সোহাগ আলী

রাবি প্রতিবেদক :


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এসএম এক্রাম উল্যাহ বলেছেন, ‘বাঙালিকে একত্রিত করার জন্য, দেশপ্রেমী জনগণকে একত্রিত করার জন্য, দেশকে রক্ষা করার জন্য এবং মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮১ সালের ১৭মে তার (প্রধানমন্ত্রী হাসিনা) প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদী দর্শন অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণমুখী, প্রগতিবাদী ও মানবতাবাদী। আর বর্তমান বাংলাদেশে এই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধরে রাখা সম্ভব নয় একমাত্র শেখ হাসিনা ব্যতিত। কারণ তিনি আমাদের অনুভবে, চিন্তায়, চেতনায় ও আদর্শে আছেন। প্রত্যাবর্তনের শুরুতেই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য জন্য লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এই অধ্যাপক আরো বলেন, তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে জেনারেল এরশাদ এবং মেজর জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনিই প্রথম যে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করে বাঙালি জাতিকে সামরিক শাসন থেকে মুক্ত করেন

। এসব আন্দোলনের একমাত্র কারণ হলো বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের প্রতি প্রেম, মায়া ও মমতা। তিনি বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের জন্য নিবেদিত, বিচলিত এবং চিন্তিত। এক কথায় তিনি দেশ প্রেমিক। বঙ্গবন্ধু যেমন দেশের মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন, তেমনি তিনি দেশের মানুষের ভাত এবং ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে চলছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল- ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ওনার প্রত্যাবর্তনে আমরা বাংলাদেশের মানুষ পুনঃশৃঙ্খলমুক্ত ও পুনঃস্বাধীনতা লাভের কোষালগ্ন হিসেবে তুলনা করতে পারি। তিনি সেদিন সমগ্র বাঙালি জাতির আশা-ভরসার আস্থার সোনালী সূর্য হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন।

যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ওনার প্রত্যাবর্তন ১৯৭২ সালের ১০শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সাথে তুলনা করা যায়। তার প্রত্যাবর্তনে এই বাংলার প্রকৃতি আনন্দ ও কষ্টে কান্নায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আজকে আমাদের কৃষি বিপ্লবের ফলে কেউ না খেয়ে আছে, এমনটা কেউ বলতে পারবেনা। আসলে বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশে ১৮ কোটি মানুষের তিন বেলা খাবার, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা-শিক্ষা, সবকিছু নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বিরূপ পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনা সবকিছু নিশ্চিত করেছেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, জনসংযোগ দপ্তরে প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পান্ডেসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রাবি শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল- গালিব। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন দুই শতাধিক নেতা-কর্মী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ