দরিদ্রদের জন্য নি¤œমানের গম || অভিযোগ তদন্ত করা হোক

আপডেট: জুন ২৩, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহী অঞ্চলে অতি দরিদ্র পরিবারকে ভিজিএফ চাল সহায়তা প্রদানের কথা থাকলেও নি¤œমানের পোকা ধরা গম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একারণে কারণে পুঠিয়া উপজেলার  চেয়ারম্যানরা গম উত্তোলন করেন নি। একই অবস্থা দুর্গাপুর উপজেলাতেও। সেখানকার চেয়ারম্যানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ১৪ কেজি নি¤œমানের গম সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ স্থানীয় দৈনিক সমূহে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা বলছেন, খাদ্য গুদাম থেকে যে গম সরবরাহ করা হচ্ছে তা নি¤œœমানের পোকা ধরা গম। সেই গম নিয়ে এসে জনগণকে দিয়ে আমরা মার খাবো। যার কারণে আমরা গম না নিয়ে চলে এসেছি।
অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চেয়ারম্যনগণ চাল বরাদ্দ নিতে চান। যার কারণে গম নি¤œমানের ও পোকা ধরার মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এগুলো সব মিথ্যা কথা। আসল কথা তাদেরকে চাল দিতে হবে। যে গমগুলো দেয়া হচ্ছে, সেগুলো প্রায় দেড় বছর আগের গম। তবে, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবিতে যে গম প্রদর্শন করা হয়েছে, তা নি¤œমান বলেই দৃশ্যমান হয়।
বর্তমান সময়ে দেশে চালের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যে কারণে চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছেÑ যা দরিদ্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে এবং সরকারি উদ্যোগে দ্রুত চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি গুদামে চালের এই ঘাটতির কারণে সরকারও বেকায়দায় পড়েছে। সে ক্ষেত্রে চালের স্থলে গম সরবরাহ করা দোষের কিছু নয় কিন্তু যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা যদি সত্য হয়, তবে তা হবে দুঃখজনক।
গরিবের সবই সয়Ñ না গরিবকে সব সইতে বাধ্য করা হয়? আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থায় গরিব অসহায়, বঞ্চিতÑ তাদের জন্য উচ্ছিষ্টই যেন বিধান। মনমানসিকতার মধ্যেই ওই বৈষম্য ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষয়টি ব্যবহারিক জীবনে প্রায় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করে থাকে অধিকাংশ মানুষ। মানুষকে তুচ্ছ না ভাবলে সামাজিক মর্যাদা যেন থাকে না। দরিদ্র মানুষকে দানের নামে কিংবা কাজের বিনিময়ে যা দেয়া হয় তা নি¤œমান ও উচ্ছিষ্ট। এর প্রতিফলন ব্যক্তি পরিবার থেকে সমাজ জীবনের সর্বত্রই লক্ষ্য করা যায়।
ঈদের জন্য সরকারি অনুদান দেয়া হবে হতদরিদ্রদের অতএব তার জন্য নি¤œমানের সামগ্রি দিতে হবেÑ মানসিক অবস্থাটাই যেন ওরকম। যদি তা খাদ্যপণ্য হয় তার নোংরা, পচা বা পোকাযুক্ত খাদ্যগুলোই চালিয়ে দেয়ার মানসিকতা নতুন কিছু নয়। এটা যে সব সময় সরকারের ইচ্ছায়ই হয় তা নয়Ñ এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টিও থাকতে পারে।
চেয়ারম্যানরা যে অভিযোগ তুলেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি তদন্ত করে যে বা যারা দোষি সাব্যস্ত হবে বা হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাই। একইসাথে দরিদ্রদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত চাল বা গম সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ