দরিদ্র বিমোচন পরিস্থিতি সন্তোষজনক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরো নির্দিষ্ট হতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক ব্যবহারে দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৬ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ কমে ২৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
করোনাকালের টালমাটাল অর্থনীতির পরেও দারিদ্র বিমোচনের এই অগ্রসরমানতা দেশবাসীর জন্য সুখবরই বটে। করোনার সংক্রমণ মূলত বিশ্ব অর্থনীীতকে বিপর্যস্থ করে তুলেছিল। দেশসমূহকে এ ধকল কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সে দিক থেকে বাংলাদেশ করোনাকালের অর্থনীতি মোটামুটি সচল রাখতে পেরেছে। যা সরকার- প্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতারই সাক্ষ্য দেয়। করোনাকালে দেশের বিপুল পরিমাণ মানুষকে খাদ্য, অর্থ ও অন্যান্য সহায়তার ফলে সমাজের দরিদ্র মানুষের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েনি। পেশাজীবীরা দীর্ঘ সময় বেকার থেকেছে কিন্তু সরকারের সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল প্রটেকশন পাবলিক এক্সপেন্ডিচার রিভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে, সামাজিক সুরক্ষার প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা, প্রোগ্রামিং এবং ডেলিভারিসহ বিদ্যমান কাঠামোতে কীভাবে উন্নতি করতে পারে, সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো মূলত গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। শহরে জনসংখ্যার প্রায় পাঁচজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। কিন্তু এর মধ্যে অর্ধেক পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকার মধ্যে ভৌগোলিক বরাদ্দ পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন।
দুঃসহ করোনাকালের অবসান-সম্ভাবনা অনুমিত হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেমে যাবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, করোনাকালে পেশাজীবী মানুষ যে ধকলের মধ্যে পড়েছিল সেটা সহসাই নিরসন হবে না। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরো সুবিন্যস্তভাবে চলমান রাখতে হবে। একই সাথে বিশ্ব ব্যাংক যে পরামর্শ দিয়েছে সেটাও প্রণিধানরযাগ্য। শহর এলাকায় ব্যাপকভাবেই দরিদ্র মানুষের ঠিকানা হয়েছে। এই মানুষদের করোনাকালের ধকল সামলাতে আরো সহায়তার প্রয়োজন আছে। সরকার বিভিন্ন্ খাতেই নগদ প্রণোদনা দিয়েছে। এই মুহূর্তে দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য খাদ্য ও অর্থ সহায়তা সময়েরই দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ