দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে বাবু ডাইং

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস



দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতির নৈসর্গিক লীলাভূমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং। বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ লালমাটি, উচুঁ-নিচু টিলা আর সারিসারি সবুজ অরণ্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বাবুডাইং দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ বেড়াতে আসছেন এখানে। কিন্তু অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারনে নানান দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দুরে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবু ডাইংয়ে ২০০ একর খাস জমিতে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির নৈসর্গিক এক মনোরম পরিবেশ। উচুঁ কয়েকটি টিলার জন্যই এক সময়ের বাবুডাঙ্গা আঞ্চলিকভাবে এখন বাবু ডাইং নামে পরিচিত। ছোট বড় ২৬ টি টিলার সমন্বয়ে গঠিত বাবু ডাইংয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এলাকাটির সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৫ বছর আগে এ এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় লাখ গাছ রোপন করে বিএমডিএ। বর্তমানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার গাছ আছে এখানে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি এখানে ৫টি পুকুরও খনন করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ লেকে একটি ক্রসড্যাম নির্মাণ করে লেকের পানিকে জমিতে সেচ দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ক্রস ড্যামের পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় তা দেখায় কৃত্রিম ঝর্নার মত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও এর আশেপাশের জেলাগুলো থেকেও দর্শনার্থীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বাবু ডাইং এর সৌন্দর্য দেখতে আসেন। শীত মৌসুমে লোকজনের আনাগোনা বছরের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এবারো শীত মৌসুমের শুরু থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন এখানে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩০/৩৫ টির মত দল আসছে পিকনিক করতে। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় এখানে বেড়াতে এসে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত টয়লেট না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে দর্শনাথীদের। এখানকার আরো একটি সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা। বিশাল এই পিকনিক স্পটে কোন নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় এ এলাকা পরিনত হয়েছে বখাটেদের নিরাপদ আখড়ায়। মদ, জুয়া ছাড়াও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার বাবু ডাইংয়ে পিকনিক করতে আসা কলেজ ছাত্র শাকিল আমম্মদ জানান, পরিকল্পিত ভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বাবু ডাইং-এ আরো বেশি পর্যটক আসবে। এখানে একটি শিশু পার্ক নির্মান করারও দাবি জানান তিনি।
বেড়াতে আসা আরেক ছাত্র তাসনীম হোসেন জানালেন, সবুজ গাছপালা ও প্রকৃতির টানেই তারা এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু অবহেলার কারনে দিন দিন আকর্ষণ হারাচ্ছে এই জনপ্রিয় পিকনিক স্পটটি।
বাবুডাইয়ে শুকনা খাবার বিক্রি করেন তাইফুর রহমান। তিনি জানান বছরের অন্যান্য সময় বেচাকেনা কম হলেও শীত মৌসুমে তা বাড়ে। এখন দিনে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার খাবার বিক্রি করেন তিনি।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, বহুবছর আগে তারা এখানে গাছ রোপনের পাশাপাশি কিছু শৌচাগার ও বিশ্রাম ছাউনী নির্মাণ করেছিলো। কিন্তু এরপরে সেগুলো আর সংস্কার করা হয় নি।