‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপিজোটের অংশগ্রহণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই ছিল নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে এই পরীক্ষায় পাস করেছে ইসি। দলীয় সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব- এমনটাই মনে করেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তবে তারা যে কোনো নির্বাচনে ইসির এই নিরপেক্ষতা অব্যাহত রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন।
তেমন কোনো হাঙ্গামা, অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দলীয় সরকারের অধীনে নতুন ইসির তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে পরাজিত করে ফের মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।
নতুন ইসির কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
জাতীয় পার্টির সমর্থনের পরও সরকারি দলের পরাজয়কে আপনি কিভাবে দেখেন এমন প্রশ্নের জবাবে মুঠোফোনে এরশাদ বলেন, কুমিল্লা নির্বাচন নিয়ে আমি কি বলবো? তারপর তিনি লাইন কেটে দেন। তাছাড়া কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি (জেপি) এর চেয়ারম্যান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচনে আমরা অংশ নেইনি। এ বিষয়ে তেমন কিছু বলার নেই।
দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যে সম্ভব তা কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে- বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি।
রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনেই নতুন ইসি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করায় কুমিল্লায় একটি গ্রহণযোগ্য সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ইসির এই নিরপেক্ষতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে জাতীয় নির্বাচনও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বিদেশিদের কাছেও এই ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে। আশা করি, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেরও অবসান ঘটবে। মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভোটদানের মধ্যদিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে।’ তিনি ইসিসহ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অভিনন্দন জানান।
জাপার সমর্থনের পরও সরকারি দলের পরাজয়কে কিভাবে দেখেন– এমন প্রশ্নের জবাবে হাওলাদার বলেন, রাজনীতিতে জয় পরাজয় তো আছে। সরকার কোথাও জিতবে, কোথাও হারবে এটাই স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের চর্চাও বটে। বরং পরাজয় মেনে নিয়ে সরকারি দলের পরাজিত প্রার্থী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এই ইসি দিয়ে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শতভাগ আশাবাদী। এই কমিশন দিয়েই আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে।
কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব প্রাক্তন মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম।রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি নাই। তবুও বলবো বর্তমান সরকারের অধীনেই অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। আশা করি, কুমিল্লা সিটির এই সুন্দর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের আগেকার বিতর্কের অবসান ঘটবে।
তিনি বলেন, কুমিল্লায় সরকারি দল হারলেও আগের চেয়ে তাদের ভোট বেড়েছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই যেভাবে নির্বাচন হয়েছে তা দেশের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
কুমিল্লা নির্বাচন জাতীয়ভাবে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন প্রাক্তন মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফলাফল জাতীয়ভাবে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ স্থানীয় অনেক ইস্যু থাকে। যেসব ইস্যু স্থানীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে হয়তো তাই হয়েছে।
ইসির তত্ত্বাবধানে কুমিল্লার মতো এমন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে যে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপিজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব প্রাক্তন মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।
তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে বলেই এই নির্বাচন ভালো হয়েছে। প্রথম নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে, জনগণের গ্রহণযোগ্য করে কৃতিত্ব নিয়েই যেন বসে না থাকে নতুন ইসি। আমরা চাই, নতুন ইসি আগামী সব নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লা সিটির ফলাফল বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন প্রাক্তন মন্ত্রী মোস্তফা জামাল। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামীতে যে কোনো নির্বাচনে সরকারি দলের ভরাডুবি ঘটবে, কুমিল্লা সিটিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। সরকার যে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নির্বাচনী ফলাফলই তার প্রতিফলন।
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার মধ্যদিয়ে নতুন ইসি প্রথম পরীক্ষায় পাস করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন।
তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে ইসি পরীক্ষায় পাস করেছে। ভবিষ্যতেও যেন তারা এভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। তাহলে দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।- রাইজিংবিডি