দল নিবন্ধন: নতুন-পুরনোদের পরীক্ষা অক্টোবরে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অক্টোবরে নতুন দল নিবন্ধনের আবেদন চাইবে নির্বাচন কমিশন।
সেই সঙ্গে নিবন্ধিত অন্তত ২০টি দলের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিস কার্যকর রয়েছে কিনা তা যাচাই করবে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের সংলাপ চলছে। সেই সঙ্গে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য কার্যক্রমও চলতে থাকবে।
২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী নতুন দলের কাছে নিবন্ধনের আবেদন চাওয়া হবে অক্টোবরে। ইসির ‘নিবন্ধন যাচাই কমিটি’ এ বিষয়ে কাজ করবে।
পাশাপাশি নিবন্ধতি ৪০টি দল শর্তগুলো মেনে চলছে কি না তা নিরীক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, “অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে বিদ্যমান দলগুলোর অবস্থা যাচাই করা হবে। শর্ত প্রতিপালনে ব্যত্যয় ঘটলে কারণ দর্শানো নোটিশসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে ইসি।”
সময়সীমা ও কার্যক্রম
অক্টোবর, ২০১৭ :নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ;
জানুয়ারি, ২০১৮ : প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বহাল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
অক্টোবর, ২০১৭ : নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান;
জানুয়ারি, ২০১৮ : নতুন রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি;
ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ : আবেদন যাচাই বাছাই করে নতুন দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করা;
মার্চ, ২০১৮ : নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়।
শর্তগুলো হলো- ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটি যদি অন্তত একটি সংসদীয় আসন পায়। ২. যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট আসনে পড়া মোট ভোটের ৫ শতাংশ পায়। ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ [২১ টি] প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে।
নতুন কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে হলে শেষ শর্তটিই পূরণ করতে হয়।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দলগুলোর নিবন্ধন দেয় ইসি। নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিস-কমিটি দিয়েছে। কিছু দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি বহাল রয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এসব দল শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা তদারকি করবে ইসি।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রশ্নে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের দুটি ধারা ও নিবন্ধন বিধিমালার একটি বিধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে গত সপ্তাহে একটি রুল দিয়েছে হাই কোর্ট।
ইসির আইন শাখার উপ সচিব মহসিনুল হক বলেন, “আদালতের কপি হাতে এলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিষয়ে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ