দশ মাসে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২ নারী ও শিশু

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দেশে ১ হাজার ২২ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬২ জন নারী এবং ৬৬০ জন কন্যাশিশু।
একই সময়ে ধর্ষণের পাশাপাশি ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল আরও ৫৩ জন নারী এবং ১৩৬ জন কন্যাশিশুকে। ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছে ১৩ জন নারী এবং ৩৪ জন কন্যাশিশু। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৩৫২ জন। এর মধ্যে ৯৬ জন নারী এবং ২৫৬ জন কন্যাশিশু।

দেশের ৭০ টা জাতীয় – স্থানীয় পত্রিকা ও ২৮ টা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর)‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষো- ২০২৩’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ১টি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এডুকো বাংলাদেশ এতে সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনেই নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এসব তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এই ১০ মাসে ৬৯৫ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ৫০২ জন এবং ১৯৩ জন কন্যাশিশু। নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে ৫৯০ জন। এদের মধ্যে ৩৪৭ জন নারী এবং ২৪৩ জন কন্যাশিশু। এছাড়া গৃহের অভ্যন্তরে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১৭৯ জন নারী এবং ২০ জন কন্যাশিশু। পাচার এবং অপহরণের শিকার হয়েছে ৩২ জন নারী এবং ১৩৬ জন কন্যাশিশু।

একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সারা দেশের থানায় বিগত পাঁচ বছরে (২০১৮-২২) ২৭ হাজার ৪৭৯টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৫৯ হাজার ৯৬০টি।

অন্যদিকে ডিএমপির তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে ঢাকায় ৩ হাজার ৪২টি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৪৭০ জন এবং শিশু ৫৭২ জন। তাদের তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শুধু ঢাকা মহানগরীতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা মাত্র চব্বিশ জন।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক আরও বলেন, আমাদের নারী ও কন্যাশিশুদের এখনও বঞ্চনা-বৈষম্য এবং নিপীড়নের থেকে মুক্তি ঘটেনি। বরং তাদের প্রতি সহিংসতা যেন ক্রমাগত বাড়ছে। পরিবারে, সামাজিক পরিসরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও যানবাহনে কোথাও এদেশের নারী ও কন্যাশিশুরা নিরাপদ নয়। নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতার একটি বড় অংশ হচ্ছে যৌন হয়রানি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, সহিংসতা, যৌন হয়রানির ঘটনার এই ভয়াবহ বাস্তবতার পেছনে যথাযথ বিচার না হওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখে। আমরা আরও মনে করি, যৌন হয়রানির ঘটনার বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় ন্যায়-বিচার পাওয়ার পথে ১টি বড় প্রতিবন্ধক।

এ সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি যথাযথ আইন। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানায় এবং মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিশুদের জন্য ১টি আলাদা অধিদপ্তর গঠনের দাবি জানাই।
পাশা-পাশি সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধের বিষয়টি রাখার আহ্বান করেন তিনি।

চাইল্ড রাইটস স্পেশালাইজড এ্যান্ড অ্যাক্টিভিস্ট টনি মাইকেল গোমেজের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি ও নারী-মৈত্রীর নির্বাহী-পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ-সম্পাদক ও অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, এডুকো বাংলাদেশের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম ফারজানা খান, গুডনেইবারস বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ রাজিয়া সুলতানা প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ