দাখিলের তিন বিষয়ের খাতা অন্য বোর্ডের শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়নের সুপারিশ

আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


দাখিল পরীক্ষার বাংলা, গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ের খাতা অন্য বোর্ডের অধীনস্থ শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়ন চায় সংসদীয় কমিটি। মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কমিটির পক্ষ থেকে এ সুপারিশ করা হয়। এদিকে, বৈঠকে কমিটি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ সব মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন নিশ্চিত করতে সুপারিশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য সরকার অনেক টাকা খরচ করে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আমরা দেখতে পাই না। তাদের শিক্ষার গুণগত মান প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত হয় না। আলিয়া পাস করা শিক্ষার্থীদের আমরা গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ভূমিকা রাখতে দেখি না। এ কারণেই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের খাতা অন্য কোনও মাধ্যমের শিক্ষকদের দ্বারা মূল্যায়ন করার সুপারিশ করেছি। এটা করা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা চাপ থাকবে এবং তারা নিজেদের গুণগত মান উন্নত করার চেষ্টা করবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকদের মধ্যে নিজেদের চাকরির স্বার্থে শিক্ষার্থীদের পাশ করানোর প্রবণতা দেখা যায়। এটা হলে এই সুযোগ তারা পাবে না।’
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদ্রাসার প্রাত্যাহিক কাজ শুরু করার আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন বাধ্যতামূলক করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।
সব মাদ্রাসা বলতে কওমি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত কিনা জানতে চাইলে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক সময় জাতীয় পতাকা পরিবেশ উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করতে দেখা যায় না। আমরা এটা নিশ্চিত করতে বলেছি। আমরা কেবল মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলেছি। কওমি মাদ্রাসার বিষয়টি এখানে আসেনি।’
বৈঠকে যেকোনও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আগে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে মাদ্রাসার সিলেবাস ও কারিকুলাম আধুনিকায়ণ; মাদ্রাসার পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ণ ও নকল প্রতিরোধে ব্যবস্থাসমূহ; উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্রছাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ; মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি, নির্বাহী কমিটি, এডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ও কমিটি সংক্রান্ত উদ্ভূত জটিলতা নিরসন; মাদ্রাসার অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/সুপার/শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ পদ্ধতি; প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বৈঠকে গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে স্থানীয় সংসদ-সদস্যের সুপারিশ গ্রহণের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ এবং এডহক কমিটি গঠনের প্রবণতা বন্ধ করার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
বৈঠকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সকল প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মো. মাহবুব-উল আলম হানিফ, মুহিবুর রহমান মানিক এবং নাহিদ ইজাহার খান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন