দানবরূপী করোনাভাইরাস মানুষের বশে আসতেই হবে- সেদিন দূর নয়

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২০, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস মৃত্যুছায়া হয়ে মানব জাতিকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস থেকে মানুষ কবে নাগাদ মুক্তি পাবে তা কারোরই জানা নেই। প্রতিদিন ভয়ঙ্কররূপী করোনাভাইরাস মানুষের মৃত্যু কার্যকর করে চলেছে। সংবাদ মাধ্যমে সেই মৃত্যু-মিছিলের প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে বিশ্ব জুড়ে হইচই চচ্ছে। গবেষণা হচ্ছে- চলছে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা কিন্তু এখনো তা মানুষের নাগালের বাইরে। তবে রাশিয়া ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা বির্শ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১২ আগস্ট করোনাভাইরাস প্রতিষেধক বাজারে আনছে। সন্দেহ নেই মানব জাতির জন্য এটি স্বস্তির সংবাদ। কিন্তু এ ধরায় বিনা চ্যালেঞ্জে কোনো কিছুই অবস্থান নিতে পারে না। এটা নিয়েও যে রাজনীতি হবে সেটাও স্বাভাবিক। পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার প্রতিষেধক- বিধায় নাক সিটকাচ্ছে। সে যাই- হোক- প্রতিষেধক যে দেশেরই হোক না- তার পরিচয় হবে দানবরূপী করোনাভাইরাস সত্যিকার অর্থেই প্রতিরোধ করতে সক্ষম কী না। কেননা এই প্রতিষেধক কোনো ধর্ম-বর্ণের লোক না- মানবের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে- সেটা যাতে হয় সেই ব্যবস্থাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে নিতে হবে।
মানুষের মধ্যেও আছে অপরিমেয় শক্তি আর ক্ষমতার উৎস। করোনাভাইরাসের কারণে হঠাৎই দমে গিয়েছিল বিশ্ব মানুষ। কিন্তু এখন আর ভিতু-ঘরকুনো নয়। বাইরে বেরুচ্ছে। জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরছে মানুষ। এখানে জীবিকার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকা জীবনের জন্য, জীবন রক্ষার জন্য। এখন মানুষ আতঙ্ক ভুলেছে- জীবিকার তাগিদেই মানুষকে সামনের দিকে এগোতে হচ্ছে। এর ফল ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে। মানুষের অপরিমেয় ক্ষমতা তার শরীরের মধ্যে এখন সেটারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। শরীরের মধ্যে করেনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও গড়ে উঠছে। মানুষ যেমন সংক্রমিত হচ্ছে তেমনি দিনি দিন সুস্থ হওয়ার হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্থতার এই হারই ক্রমশই মানুষকে করোনার বিরুদ্ধে বিজয়ী ঘোষণা করবে- সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয়। দৈনিক সোনার দেশ প্রত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ৭ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৮০ জনে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ২৭২ জন। অর্থাৎ সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ হয়ে ওঠার ক্রম-উর্ধগামিতা আশান্বিত করছে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে করোনাভাইরাসকে জয় করা সম্ভব হবে।
কোনো কোনো বিশ্ষেজ্ঞের মত করোনাভাইরাস অচিরেই দিায় নিচ্ছে না। কিংবা করোনা নিয়েই আমাদের জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। করোনা রোগির সুস্থতার এই প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেই জীবন ব্যবস্থাতেও মানুষ অভ্যস্থ হয়ে উঠবে। আর প্রতিষেধক তো বাজারে আসছে। শুধু রাশিয়া নয়Ñ একে একে অনেক দেশ তাদের প্রতিষেধক শিগগিরই বাজারে আনছে। নিশ্চয় মানুষের অপরিমেয় শক্তির কাছে দোর্দণ্ড প্রতাপের করোনা ভাইরাস বশ্যতা স্বীকার করবে অচিরেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ