দায়িত্বে অবহেলায় ডাক বিভাগের অতিরিক্ত ডিজির ইনক্রিমেন্ট স্থগিত

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দায়িত্বে অবহেলায় ডাক অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সরবরাহ ও পরিদর্শন) মো. ফয়জুল আজিমের দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত ডিজি) ফয়জুল আজিমকে এই লঘুদণ্ড দিয়ে সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডাক অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সরবরাহ ও পরিদর্শন) মো. ফয়জুল আজিম ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালী বিভাগের খিলপাড়া ও দত্তপাড়া ডাকঘরে যথাক্রমে ২০ কোটি ও ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।
এতে বলা হয়, তার কর্মকালে সাব পোস্টমাস্টার নূর করিম ও মিজানুর রহমান পোস্টমাস্টারকে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর যথাক্রমে নোয়াখালী বিভাগের কড়িহাটি ডাকঘর ও খিলপাড়া ডাকঘরে সাব পোস্টমাস্টার হিসেবে পারস্পরিক বদলি করা হলেও তারা কর্মস্থল পরিবর্তন না করে শুধু কাগজের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ করেন। অভিযুক্ত কর্মচারী নূর করিম ১৯৯৯-২০১৯ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের প্রায় ১৬ বছর একই ডাকঘরে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার (ফয়জুল আজিম) নজরে আসেনি।
ফয়জুল আজিম চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে থাকাকালীন তার আওতাধীন নোয়াখালী বিভাগের পরিদর্শন কার্যক্রম যথানিয়মে পালন করলে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটতো না এবং তার এমন কর্মকাণ্ড কর্তব্যে চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় প্রকাশ পায়, যা অসদাচরণের সামিল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এই অপরাধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ফয়জুল আজিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। ফয়জুল আজিমের লিখিত এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে দেয়া বক্তব্য সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয়নি এবং সার্বিক পর্যালোচনায় তাকে লঘুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তাই ফয়জুল আজিমকে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী পরবর্তী দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ