দিনাজপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ।। ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীরসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনার এখনো কোনো মোটিভ খুঁজে পায় নি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাদেরিয়া মোহাম্মদিয়া খানকা শরিফের খাদেম সাইদুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে খোঁজা হচ্ছে পালিত মেয়ে গৃহপরিচারিকা রুপালী বেগমের স্বামী সিরাজুল ইসলামকে।
গতকাল মঙ্গলবার বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। ঘটনা তদন্তে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ জামান আশরাফকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুরিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমান, কাহারোল সার্কেল অফিসার রুহুল আমিন, বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ডিবির এসআই বজলুর রশিদ ও ফরিদ হোসেন।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এই ঘটনায় কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শত্রুতামূলকভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটাও দেখছে পুলিশ। এক কথায় সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার করা হবে।
এদিকে স্থানীয় এমপি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মুরিদদের ধারনা উগ্র জঙ্গী সংগঠন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। নিহত গৃহপরিচারিকার স্বামী ঘটনার পর থেকে পলাতক।
উল্লেখ্যসোমবার রাত আনুমানিক ৮টায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলায় দুর্বৃত্তরা কাদেরিয়া মোহাম্মদিয়া খানকা শরিফের তথাকথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬২) ও তার গৃহপরিচারিকা রুপালী বেগম পারুল (১৯)কে হত্যা করে। নিহত ফরহাদের বুকে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায় এবং তাঁর হাতের কব্জি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়। পারুলের বুকে গুলির এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিহ্ন ছিল। ফরহাদ হোসেনের লাশ তার শয়ন কক্ষের বিছানায় ও পারুলের লাশ রান্নাঘরের মেঝেতে পাওয়া যায়।
খানকাহ শরিফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ সুমী বেগম জানান, তারা রাত ৯টায় এসে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে এলাকাবাসীসহ অসংখ্য মুরিদ হাজির হন। খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ দুটো সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে লাশ উদ্ধার করেন। নিহত পারুল একই ইউনিয়নের মুলদুয়ার গ্রামের হসের আলীর কন্যা। গত বৃহস্পতিবার পারুলের সাথে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা কথিত মুরিদ সিরাজুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হলেও আগামী মাসে বিদায় দেয়ার তারিখ নির্ধারিত হয় বলে হসের আলী জানান। ঘটনার পর থেকে সিরাজুল পলাতক রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ