দিনাজপুরে ত্রাণ বিতরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা || এক কোটি দরিদ্র মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার তিন মাস পর্যন্ত সবধরনের সহায়তা দেবে। এক কোটি দরিদ্র মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত আপনারা কোন চিন্তা করবেন না। আপনাদের ভাগ্যের উন্নয়নে ও পুনর্বাসনে আমি আন্তরিকভাবে সক্রিয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মতো আমিও জনগণের জন্য আমার জীবনকে উৎসর্গ করার অঙ্গিকার করেছি। আওয়ামী লীগ দুঃখী মানুষের দল। তাই আপনাদের পাশে বন্ধু হিসেবে স্বজন হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
গতকাল রোববার সকালে দিনাজপুর শহরের জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ২১টি জেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুর্ভোগ কষ্ট লাঘবে আমরা ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। বন্যাদুর্গত এলাকায় গৃহহারা মানুষকে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। সেজন্য টিন দেয়া হবে। যে এলাকায় খাস জমি নেই সেখানে সরকার জমি কিনে গৃহ নির্মাণ করবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও নির্মাণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভাট নির্মাণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে তা সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কৃষিতে ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় মানুষ যেন কোনোভাবেই অভুক্ত না থাকে, সেজন্য বিদেশ থেকে খাদ্য শস্য আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। বীজ, কীটনাশক, সারসহ অন্যান্য উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এক কোটি দরিদ্র মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী এনজিওদের উদ্দেশ্যে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপর জুলুম করবেন না। তাদের উপর কোন ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করার চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাবা-মা, ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন হারিয়ে আজ নিঃস্ব স্বজনহারা। আপনারাই আমার শক্তি-সাহস আর স্বজন। তাই আপনাদের দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট দুর্ভোগে আমি সবসময় পাশে রয়েছি। আপনাদের ভাগ্যের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় সচেষ্ট। আওয়ামী লীগ যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তখনই জনগণের উন্নয়ন হয় এবং মানুষের মুখে হাসি ফুটে। জনগণের সেবা করাই আওয়ামী লীগের মূলমন্ত্র ও দায়িত্ব।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। দুইটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ১০ হাজার বন্যাদুর্গত মানুষকে ত্রাণ দেয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ স্থানীয় সাংসদ ইকবালুর রহিম ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এবং যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিনাজপুরে আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো দলীয় নেতাকর্মী জিলা স্কুল ও তেঘরা হাইস্কুলের আশেপাশে সমবেত হন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ