দিনাজপুরে পৌনে দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট: মার্চ ২, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর


দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত অর্জিত করতে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো চারা রোপণ করা হবে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলায় বোরো চাষ শুরু হয়। কৃষকেরা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে জমি চাষযোগ্য করে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছে। চলতি বছর কৃষি অধিদফতর জেলায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল উৎপাদন নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হলেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। গত বছর জেলায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অর্জিত হয়েছিল। অর্জিত বোরো চাষে ফলন হয়েছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন চাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধানের জেলা হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি অধিদফতরের সহযোগিতায় বোরো চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ, সেচ কাজে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সার, কীটনাশক ও ডিজেল সরবরাহ সঠিক থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ অর্জিত সম্ভব হবে। এবারে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকলে জেলায় বাম্পার বোরো চাষ উৎপাদন হলে চাল উৎপাদন হবে ৭ লাখ মেট্রিক টনের অধিক। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে কৃষি অধিদফতর কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি অধিদফতরের গবেষণা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, এবারে জেলায় ভালো ফলনের জন্য হাইব্রিড জাতের অধিক ফলনশীল ধানের ভ্যারাইটি এসিআই, আফতার, জিরা, জাগরণ, এরাইস, টিয়া ও নীলসাগর ধানের চারা রোপন করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এই ভ্যারাইটির ধান প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন থেকে ৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। দেশি উফশী জাতীয় ধানের মধ্যে ব্রি-২৮, ২৯, ৫৮, ৪৫, ৫৫, বিআর-১৬ ও কোটরা পারি ধানের ফলন বেশি ও বালাইমুক্ত হওয়ায় কৃষকদের এই ধানের বীজ রোপণে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এসব দেশি উফশী জাতীয় ধান প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন থেকে ৪ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন অর্জিত হয়। এবারে হাইব্রিড ও উফশী উন্নত জাতের এসব বোরো ধানের চারা রোপণ বেশি হয়েছে।
দিনাজপুর বিআরডিবি সার বিভাগের উপপরিচালক দিদার হোসেন জানান, জেলায় বোরো চাষে কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছর বোরো চাষের ১৩ হাজার ৮১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন ড্যাব ও ২ হাজার ১৯ মেট্রিক টন এমওপি রাসায়নিক সার চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে দ্বিগুণ পরিমাণ সার বিআরডিবির গুদামে মজুদ রয়েছে। জেলার ১২৬ জন রাসায়নিক সার ডিলার ও ৩৭৮ জন সাব ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কৃষকেরা সহজে সার ক্রয় করে বোরো চাষে ব্যবহার করছেন।
দিনাজপুর কৃষি অধিদফতরের যান্ত্রিক বিভাগের সহকারী পরিচালক ইকবাল হাসান জানান, জেলায় কৃষি কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুৎ চালিত ২ হাজার ৮৫৭টি গভীর ডিপ টিউবওয়েল, ১৩ হাজার ৪৬৬টি বিদ্যুৎ চালিত অগভীর ডিপ টিউবওয়েল, ৬২ হাজার ৬৬৯টি ডিজেল চালিত ডিপ টিউবওয়েল ও ৩৮৬টি ললিত পাওয়ার পাম্প বোরো চাষের সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য চালু রয়েছে। বোরো মৌসুমে চেক কাজে ব্যবহারের জন্য যন্ত্রগুলো যাতে স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে দিনাজপুর অঞ্চলে ২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে তৎপর রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় বাম্পার ইরি-বোরো চাষ উৎপাদন সফল করতে কৃষি অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ