দিনাজপুরে বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের পরিবারের পাশে শ্রম প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি  


দিনাজপুরের চালকলের সকল বয়লার নিরাপদ কর্ম পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা বেধে দিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মালিক পক্ষকে সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের কোন অজুহাতই ছাড় দেয়া হবে না।
গতকাল রোববার দুপুরে দিনাজপুরের বয়লার বিস্ফোরণ ঘটনায় নিহত ১৭ শ্রমিকের স্বজনদের হাতে নগদ অর্থ প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরকে দিনাজপুরের সকল চালকল পরিদর্শন করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শ্রমিক বান্ধব পরিবেশসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কর্মরত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও আট ঘণ্টার শ্রম সময়সীমা মেনে চলা না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাস হিসেবে মনে করলে সেই মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে মিল বন্ধ করে দেয়া হবে।
বর্তমান সরকারের শ্রমিক কল্যাণে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২১১  কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠন করে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের মেধাবী ছেলে-মেয়েকে পড়াশুনার খরচ দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল হতে যমুনা অটোরাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ শিরিন আক্তার, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী, চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি সারওয়ার আশফাক আহমেদ লিয়ন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল, জাতীয় শ্রমিক জোটের জেলা সভাপতি সহিদুল ইসলাম এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে জর্জেস সোহেল।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ শিরিন আক্তার যমুনা অটোমিলের বয়লার বিস্ফোরণ ঘটনাকে ১৭ শ্রমিকের পরিকল্পিত হত্যাকা- উল্লেখ করে মিল মালিক সুবল ঘোষসহ দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী নিহত ১৭ জন ও আহত ৪ জন শ্রমিকের পরিবারের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতে নিহত ১৭ জন শ্রমিকের প্রত্যেককে আরো দেড় লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে ৫ জন শ্রমিকের মেধাবী সন্তানদের ৩০ হাজার টাকা করে ও ২ জন সন্তানকে ২০ হাজার টাকা করে পড়াশুনার জন্য অনুদানের চেক দেয়া হয়।