দিনাজপুরে মাদক অভিযানে গ্রামবাসী-ডিবি পুলিশ সংঘর্ষ ||১৩ জন আহত, ৪০ ডিবি পুলিশের বদলি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


রাস্তা অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ-সোনার দেশ

দিনাজপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় ডিবি পুলিশের ৪০ জনকে গতকাল সোমবার গণবদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনপক্ষই মামলা দায়ের করে নি। সংঘর্ষে পুলিশের হামলায় ১৩ জন গ্রামবাসী আহত হয়।
রোববার বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে ডিবির এসআই রেজাউল ইসলাম ও এএসআই জামিলের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় নূরুজ্জামান নামক এক ব্যক্তিকে আটক করে। তার কাছে মাদক আছে বলে বেদম প্রহার করা হলে এলাকাবাসী এ ঘটনায় বাধা দেয়। এলাকাবাসীর সঙ্গে ডিবি পুলিশের তুমুল বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশ স্থানীয় জনতার উপর লাঠিচার্জ শুরু করলে ১৩ জন আহত হন। লাঠিচার্জে নারী-শিশুও আহত হন। বিক্ষুব্ধ জনতা মাদক উদ্ধারের নামে ডিবি পুলিশের অত্যাচার, নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাস্তায় জড় হয়ে গাছের গুড়ি ও ইট দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দ্বিতীয় দফা গ্রামবাসীর উপর লাঠিচার্জ করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ১০টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
আহত ১৩ জনের মধ্যে জয়বর আলী (৪০), সাদেক আলী (৩৫) ও আমজাদ হোসেনকে (৪২) গতকাল সকালে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, প্রায়ই ডিবি পুলিশের লোকজন গিয়ে নিরীহ জনগণকে হয়রানি করেন। কিন্তু মূল যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আটক করে প্রহার করা নূরুজ্জামান মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। এক সময়ে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। এই বিষয়টি জানানোর পর উল্টো ডিবি পুলিশের লোকজন গ্রামবাসীর ওপর চড়াও হয় এবং নারীসহ সকলকেই মারধর করে চলে যায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুুলিশ গিয়ে আবারও গ্রামবাসীদেরকে মারধর করে। যার কারণে তাদের প্রতিহত করতে গ্রামবাসী রাস্তায় নামে।
গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ সুপার হামিদুল আলম রোববার রাতের ঘটনার কারণে দিনাজপুরে কর্মরত ৪০ জন ডিবি পুলিশকে একযোগে বদলির আদেশ দিয়ে সকলকে স্থানীয় পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেন। বদলির তালিকায় রয়েছেন ১০ জন এসআই, পাঁচ জন এএসআই ও ২৫ জন কনস্টেবল। তবে ডিবি পুলিশের দুইজন পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ও মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির ব্যাপারে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে সোমবার সকালেই পুলিশ সুপার অবগত করেছেন বলে সূত্রটি জানান।
বিকেলে পুলিশ সুপার হামিদুল আলমকে বদলির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এটা গণবদলি নয়। এরা অনেক দিন ধরে দিনাজপুরে ছিল। তাই তাদের রুটিন মাফিক বদলি করা হয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কোন পক্ষই কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে নি।