দিনাজপুরে ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে আলুর বাম্পার ফলন

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর


 দিনাজপুরে ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে এবারে বাম্পার আলুর ফলন অর্জিত হয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত অর্জিত আলু বাহিরে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মো.গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৪৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনে ফলন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ৫ হাজার ৭১৪ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়ে অর্জিত হয় ৪৮ হাজার ৯১৪ হেক্টরে। অর্জিত আলু থেকে উৎপাদন হয়েছে ৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন। জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়ন এবং ৯টি পৌরসভায় বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত উৎপাদিত ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আলু জেলার বাহিরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্রটি জানায়, আলু চাষের মৌসুমের শুরু থেকে অনুকুল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ, রাসায়নিক সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ থাকায় এবারে জেলায় কৃষকেরা উচু-নিচু প্রায় সম্ভাব্য আলু চাষযোগ্য জমিতে চাষীরা আলু চাষ করেছে। মৌসুমের শুরুতে গেলেনা, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, ষ্টারিজ, ক্যারেজ, লেডিরোসেডা, পেটনিস জাতের আলু কৃষকেরা বেশি করে চাষ করেছে। এসব জাতের আলুর অধিক ফলন হওয়ায় কৃষকদের আলুর বীজ বোপন করতে কৃষি বিভাগ উৎসাহ দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে গেলেনা, কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলু বাজারে উঠায় কৃষকেরা অধিকমূল্য পেয়েছে। আমন ধান কর্তনের পর ওই জমিতে অগ্রহায়ন মাসের প্রথমেই আলু চাষ শুরু করা হয়। এসব জমিতে দেশী জাতের পাটনাই, জলপাই, কাবেরী, বগুড়াই, চল্লিশা ও আটত্রিশ জাতের আলু চাষ করা হয়। এসব আলু চলতি ফাল্গুন মাসে পরিপক্ক হওয়ার পর কৃষকেরা জমি থেকে উত্তোলন শুরু করেছে। মৌসুমের শেষ দিকে দেশী জাতের যে সব আলু জমি থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে তা শুকনো হওয়ায় সারা বছর খাওয়ার যোগ্য করে মজুদ রাখা হয়। বীজ আলু ও বছরের শেষ দিকে বাজার জাতের জন্য কোল্ডষ্টেরেজে আলু মজুদ রাখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে জেলায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে ৮ লক্ষ মেট্রিক টন। এবারে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় ও সঠিকভাবে আলু চাষীরা পরিচর্যা করায় জেলায় বাম্পার আলু উৎপাদন হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ