দিনাজপুর পুলিশের নজরদারিতে ছিল নব্য জেএমবি নেতা আবুল কাশেম

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর  



রাজধানীতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যদের হাতে আটক নব্য জেএমবি’র নেতা মাওলানা আবুল কাশেম চাকরি করতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার অকড়াবাড়ী হামিদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায়। প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস চাকরি করেছেন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে। তিনি যে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত এই ঘটনা আগে থেকেই জানতো পুলিশ। তবে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগেই এখান থেকে সটকে পড়েন তিনি।
এদিকে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোকটি এলাকায় ভাল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে গত এক বছর আগে অসুস্থ বলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যান তিনি। কিন্তু সেই যাওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে জানায়, আবুল কাশেম জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।
শুক্রবার বিকেলে ওই মাদ্রাসা সরেজমিনে যাওয়ার পর কথা হয় বর্তমান প্রিন্সিপাল আব্দুল মালেক জানান, তিনি প্রায় ৫ মাস যাবত এখানে চাকরি করছেন। তার আগে আবুল কাশেম দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু তিনি নিখোজ থাকায় তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, যোগদান করার পর কোন কাগজপত্র তিনি এখানে পান নি। সবই আবুল কাশেম নিয়ে গিয়েছিল। তাই কতদিন তিনি এখানে কর্মরত ছিলেন তা বলা যাচ্ছে না।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ শাহ্ জানান, আবুল কাশেমকে এই মাদ্রাসায় সর্বসাকুল্যে তাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হতো। গত বছরের ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মাসের বেতন নিয়ে অসুস্থ হওয়ার কথা বলে তিনি বাড়িতে যান। এরপর আর তিনি ফিরে আসে নি। আবুল কাশেম মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার পর এখানে পুলিশ বেশ কয়েকবার অভিযান চালায়। পরে জানাজানি হয় যে আবুল কাশেম জেএমবি’র সাথে জড়িত। এই মাদ্রাসায় আবুল কাশেমের ৩ ছেলেও পড়াশোনা করতো। পরে মাদ্রাসার পরিবেশ নষ্ট যাতে না হয় এই স্বার্থে তাদেরকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি জানান, আবুল কাশেম আগের কোন হিসাব নিকাশ রেখে যান নি। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রার খাতা রেখে গেছেন।
স্থানীয় সাইতাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন জানান, তিনি যে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত তা কখনোই অনুমান করা যায় নি। বেশ কয়েকবার তার সাথেও কথা হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি আচ করা যায়নি। যদি আচ করা যেতো তাহলে তিনি নিজেই আবুল কাশেমকে পুলিশে ধরিয়ে দিতেন।
তবে আবুল কাশেম যে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত এই ঘটনা আগেই জানতো পুলিশ। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, জঙ্গী সন্দেহে আগে থেকেই পুলিশ তাকে পর্যবেক্ষণ করছিল। কিন্তু অভিযানের আগেই মাদ্রাসা থেকে সটকে পড়ে আবুল কাশেম। পরে তার বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি।