দিনেদুপুরে অজ্ঞান করে দুই লাখ টাকা ছিনতাই

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও অজ্ঞান করে এক লাখ ৮২ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর হাদির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আহত ওই শিক্ষার্থীকে মেহেরচন্ডির মুশরইল এলাকা থেকে বেলা দুইটায় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ৩৯ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীর নাম কাওসার আলী বকুল। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। সদ্য ওই বিভাগ থেকে ¯œাতকোত্তর সম্পন্ন করে কমিউনিকেশন জার্নালিজমের ওপর থিসিস করছেন। এছাড়া তিনি উইজডম স্টান্ডার্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেন।
আহত শিক্ষার্থী ও উদ্ধারকারীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বেলা ১২টায় আলুপট্টি মোড়ে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার উত্তোলন করেন। এই টাকাটা ছিল উইজডম স্টান্ডার্ড কলেজের।  তার কাছে ছিল আরো ১৭ হাজার টাকা। এই মোট এক লাখ ৮২ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তালাইমারীগামী একটি অটোরিকশায় উঠেন। অটোরিকশায় আরো তিন জন যাত্রী ছিল। ওই অটোরিকশাটি ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। আলুপট্টি থেকে হাদির মোড় যেতেই ওই তিন যাত্রী তার মুখে চাদর চেপে ধরে। এসময় তিনি হাত-পা ছুঁড়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে তার ওপর উপর্যপুরি হামলা করা হয়। একসময় তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফিরে দেখেন মুশরইল এলাকায় পড়ে রয়েছেন। স্থানীয়রা তার মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। তারপর তার কাছ থেকেই স্থানীয়রা মোবাইল নম্বর নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন হায়দারের কাছ ফোন করেন। ফোন পেয়ে তিনিসহ আরো কয়েকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তার বুক, পা ও হাতে জখমের চিহ্ন রয়েছে। কাওসার বকুল এই প্রতিবেদককে বলেন, টাকাটি ছিল উইজডম স্টান্ডার্ড কলেজের। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আমার একাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এইরকম এর আগে আরো বহুবার পাঠানো হয়েছে। টাকাটা পাঠিয়েছিলেন কলেজের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন। টাকাটা তুলে নিয়ে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ওই কলেজের পরিচালক মো. হেদায়েতুল্লাহর কাছে জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কাওসার বকুল বলেন, অটোরিকশায় আমার পাশে বসা ব্যক্তিটি অতর্কিতে আমার মুখ চেপে ধরে। ধরে তার গায়ের চাদর দিয়ে আমার মুখ ঢেকে ফেলে। আমি নিজেকে ছাড়ানো চেষ্টা করলে ছুরি মারার ভয় দেখিয়ে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। তখন অটোরিকশায় ফুল ভলিউমে গান বাজছিল। এরপর আমার আর জ্ঞান হারিয়ে যায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন হায়দার বলেন, আমি একটি কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারে গিয়েছিলাম। তখন আমার ফোনে একটি অপরিচিত বাংলালিংক নম্বর থেকে ফোন করা হয়। তখন একটা সাঁইত্রিশ বাজে। ফোন করে বলা হয়, বকুল নামের কাউকে চিনেন কি না। ওকে মুশরইল এলাকায় জমির খেতের ওপর মেরে অজ্ঞান করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফোন পেয়ে দুই মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনো মামলা করা হয়নি। যেহেতু বকুল পড়ালেখার বাহিরেও একটি কলেজে পার্টটাইম কাজ করতো। এই টাকাটাও ছিল ওই কলেজের। সেহেতু তাদের পরামর্শ নিয়েই মামলা করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ওই কলেজের পরিচালক মো. হেদায়েতুল্লাহ বলেন, টাকাটা উত্তোলন করে ক্যাম্পাসে আমার কাছেই নিয়ে আসার কথা ছিলো।  কিন্তু তার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। অবশ্যই এটা একটি ক্রাইম। ছেলেটিকে দেখলাম অনেক আহত হয়েছে।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কলেজের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছেন। তিনি আসলে কাল (সোমবার) আমরা এই বিষয়টা নিয়ে মুভ করব। অবশ্যই মামলা করবো বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ