দিনে অত্যধিক ঘুমের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দিনে অত্যধিক ঘুম আসলে বা ঘুমে অত্যধিক সময় ব্যয় হওয়াকে হাইপারসোমনিয়া বলে। হাইপারসোমনিয়া হলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে দিনে জেগে থাকা কঠিন হয়।
আক্রান্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তে পারে, যেমন- কর্মক্ষেত্রে বা গাড়ি চালানোর সময় নিজের অজান্তেই ঘুমে তলিয়ে যেতে পারে। তাদের ঘুম সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যাও থাকতে পারে, যেমন- শক্তির অভাব ও চিন্তার অস্পষ্টতা। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়।
হাইপারসোমনিয়ার কারণ
হাইপারসোমনিয়া সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। যেমন-
* স্লিপ ডিজঅর্ডার নারকোলেপসি বা দিনে অতিমাত্রায় ঘুম হওয়া এবং স্লিপ এপনিয়া বা রাতে ঘুমের সময় শ্বাসক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটা।
* স্লিপ ডিপ্রাইভেশন বা রাতে যথেষ্ট ঘুম না হওয়া।
* প্রয়োজনাতিরিক্ত ওজন হওয়া
* মাদক বা অ্যালকোহলের ব্যবহার
* মাথায় আঘাত বা স্নায়বিক দুর্বলতা, যেমন- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা পারকিন’স ডিজিজ
* প্রেসক্রিপশনভুক্ত ওষুধ, যেমন- ট্রানকুইলাইজারস বা অ্যান্টিহিস্টামিনস
* জিনগত সমস্যা বা মা-বাবার হাইপারসমনিয়া থাকা
* বিষণ্নতা
হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ
হাইপারসোমনিয়ায় ভোগা লোকেরা দিনে জেগে থাকার চেষ্টা করে এবং সাধারণত বারবার ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম দীর্ঘ বা অসময়ে হতে পারে। কথা বলার সময়, খাওয়ার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় বা অন্য কোনো কাজের সময় তারা ঘুমিয়ে পড়তে পারে। সাধারণত ঘুম থেকে তারা মুক্তি পায় না। এ রোগে আক্রান্ত লোকেরা প্রতিরাতে ১০ ঘণ্টারও বেশি ঘুমায় এবং সকালে ওঠার জন্য সংগ্রাম করে, কারণ তারা তন্দ্রালু অনুভব করে এবং ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দিহান বা ঘুম উন্মত্ততায় থাকে। অত্যধিক ঘুম ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হাইপারসোমনিয়ার অন্যান্য উপসর্গ হল-
* মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন- উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভোগা
* কম শক্তি থাকা
* অস্থির বা উত্তেজিত থাকা
* ধীরগতিতে চিন্তা বা কথা বলা
* স্মরণ সমস্যায় ভোগা বা কোন কিছু ভুলে যাওয়া
* মনোযোগ দিতে না পারা।
এসব উপসর্গসমূহ কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে দেখা দিতে পারে। যদিও তা আরো আগে বা পরে দেখা দিতে পারে।
হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়
আপনি যদি দিনে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়ে ডাক্তার আপনার ঘুমাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাইবেন, যেমন- রাতে কতটুকু ঘুমান, রাতে জাগেন কিনা এবং দিনের কোন কোন সময় ঘুম আসে। আপনার আবেগজনিত সমস্যা বা বর্তমানে সেবনকৃত ওষুধ বা মাদক সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিবেন, যেমন- রক্ত পরীক্ষা, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান বা সিটি স্ক্যান এবং পলিসমনোগ্রাফি বা ঘুম পরীক্ষা। কিছুক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম(ইইজি) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতে পারে যা ব্রেইনের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে কিংবা ব্রেইনের অস্বাভাবিকতা বা সমস্যা খুঁজে বের করে।
হাইপারসোমনিয়ার চিকিৎসা
যদি আপনার হাইপারসোমনিয়া ধরা পড়ে তাহলে ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন ওষুধ খেতে বলতে পারেন। এসবের মধ্যে স্টিমিউল্যান্টস (উদ্দীপক বা শরীর চাঙাকারী ওষুধ), অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস (বিষণ্নতা প্রতিরোধক) এবং কিছু নতুন ওষুধ থাকতে পারে। যদিও হাইপারসোমনিয়া চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। স্টিমিউল্যান্টস আপনাকে দিনে জাগ্রত থাকতে সাহায্য করবে। আবেগতাড়িত সমস্যায় অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস কাজে আসতে পারে। স্লিপ এপনিয়া হলে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেও হাইপারসোমনিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে পারেন যাতে বেশি করে ঘুম হয়। রাতে কাজ করা বন্ধ করুন। প্রতিরাতে রুটিন মেনে ঘুমান। অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বর্জন করুন। যদি কোনো ওষুধ তন্দ্রালুভাব আনে তাহলে ডাক্তারকে বলুন যেন তা পরিবর্তন করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ