দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক থাকার পরেও যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ে না করার অভিযোগ || মামলা করায় পরিবারের সদস্যদের হুমকি

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর উপকণ্ঠ বায়া এলাকায় এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে সম্পর্ক রাখার পরেও এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ে না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিলেও ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা তা মেনে নেন নি। এছাড়া ওই নারী বিয়ের দাবি জানালে তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ওই নারী বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই যুবকসহ তিনজনকে আসামি করে নগরীর শাহ মখদুম থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারের প্রেক্ষিতে ওই যুবককে গ্রেফতারের পর পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা ওই নারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এর ফলে ওই নারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিক মর্যাদাহানির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, বায়া বারইপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে জনাবুর রহমান বিপুলের সঙ্গে পাঁচ বছর থেকে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের সূত্র ধরে গত দুই বছর থেকে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময় বিপুল ওই নারীর পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে গত গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বিপুল তার মোবাইল ফোনে ওই নারীকে তার বাড়িতে ডাকেন। এসময় ওই নারী বিপুলের বাড়ি গেলে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী এসময় বিয়ে করার জন্য চাপ দেন এবং শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানান।
এসময় বিপুলের বোন এবং তার মা ওই নারীকে তাদের বাড়িতে দেখতে পেয়ে মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয়রা ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর ওই নারী চিকিৎসা শেষে ফিরে আসলে গত ২৬ আগস্ট নওহাটা পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী জিন্নার নেতৃত্বে স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসেন। কিন্তু বিপুল এবং তার পরিবার বিয়ের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানান।
এ ব্যাপারে নির্যাতিত ওই নারী বলেন, পাঁচ বছর থেকে বিপুলের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তাকে বিয়ের জন্য বললে সে এবং তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে মারপিট করেছে। মামলা করার পর থেকে তা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারের সদস্যরা একারণে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে শাহ মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এক নম্বর আসামি বিপুলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় সহায়তাকারী হিসেবে অপর দুই আসামির ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনো পাওয়া যাই নি। রিপোর্ট পাবার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ