দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ চান কাতার জয়ী ফুটবলাররা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পূর্বসূরিদের পরিণতিটা কম বেশি জানা ইয়াসিন আরাফাতের। অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের এ অধিনায়ক তাই চাইছেন তারাও যেন হারিয়ে না যান অতীতের মতো। কাতারের মাটিতে কাতারকে হারিয়ে সোমবার বিকেলে দেশে ফিরে কিশোরদের অধিনায়ক বলেছেন, ‘এখন আমাদের একটি চাওয়া দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। আমরা যাদের হারিয়েছি সেই কাতার এ টুর্নামেন্টের আগে ৫টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। তাদের পুরো কোচিং স্টাফ বিদেশি। তারপরও তারা ২-০ গোলে হেরেছে আমাদের কাছে। তাই আমাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প করা দরকার। সেটা হলে আমরা আরো উন্নতি করতে পারবো।’
দোহায় বাংলাদেশ একটি ম্যাচ কম খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত শেষ মুহুর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায়। অধিনায়ক মনে করেন, ম্যাচটি খেলতে পারলে তাদের আরো অভিজ্ঞতা বাড়তো। ইয়েমেনের কাছে দুই অর্ধের শেষ দিকে গোল খেয়ে হারাটাকে নিজেদের ভুল হিসেবেই দেখছেন ইয়াসিন, ‘ইয়েমেনের কাছে হেরেছি সামান্য ভুলের জন্য। দুটি গোলই খেয়েছি দুই অর্ধের ইনজুরি সময়ে। হয়তো মনসংযোগে ঘাটতি পড়েছিল তখন। তাই গোল খেয়ে যাই। প্রথম গোলটি খেয়েছি পেনাল্টি থেকে। সেটি পেনাল্টি ছিল মনে হয় না। বলটি উপরে ছিল। সানোয়ারের পায়ে হালকা লেগে পড়ে গিয়েছিল ওদের খেলোয়াড়। পরে আমরা ভিডিও দেখেছি, সেভাবে সানোয়ারের পা লাগেনি। পেনাল্টি না দিলেও পারতেন রেফারি।’
কাতারের বিপক্ষে কী লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিলেন? ‘কাতারের বিরুদ্ধে আমাদের লক্ষ্যই ছিল গোল খাব না, পারলে দেবো। রক্ষণ ঠিক রেখে প্রতি আক্রমণ করে খেলেছি। ওদের ভুলের অপেক্ষায় থেকেছি। ওরা মিস করলেই প্রতি আক্রমণে গোল করবো- মাথায় ছিল আমাদের। সেভাবেই করেছি’- জবাব কিশোরদের অধিনায়কের।
মাসখানেক আগে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন। এবার খেললেন এশিয়ান পর্যায়ের টুর্নামেন্ট। পার্থক্যটা কী দেখলেন? ‘সাফ আর এএফসির প্রতিযোগিতার অনেক পার্থক্য। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো বছরের পর বছর একাডেমিতে অনুশীলন করে। তাদের যোগ্যতা অনেক বেশি। তারা উন্নতমানের প্রস্তুতি নেয়, সেখানেই আসলে পার্থক্যটা হয়ে যায়। যদি ওদের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারি তাহলে আমরাও আরো ভালো করবো’-জবাব ইয়াসিন আরাফাতের।
এখন কী মনে হয় সাফে নেপালের কাছে হারাটা ছিল অপ্রত্যাশিত? ‘অবশ্যই। এখন ৭ দিনের মধ্যে যদি কোনো ম্যাচ খেলি নেপালের সঙ্গে ওরা পারবে না ইনশাল্লাহ। আসলে ওই দিনটা আমাদের ছিল না। ৩ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ২ গোল দিয়েছিলাম, এটা কিন্তু বড় অর্জন। আমাদের স্টপার ও গোলরক্ষকের ভুলের কারণেই তিনটি গোল খেয়েছিলাম। একটা আত্মঘাতি ছিল। এখন নেপালের সঙ্গে ৫ ম্যাচের সিরিজ খেললে চারটিতেই জিতবো’- কাতারকে হারানোর পর নেপালকে একটা চ্যালেঞ্জই দিয়ে রাখলেন কিশোরদের অধিনায়ক।