দুই কিশোরকে গাছে বেধে নির্যাতন : দুই ইউপি সদস্য গ্রেফতার

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীর দুর্গাপুরে ছাগল চুরির অপরাধে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানোর ঘটনায় ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, আবদুল মোতালেব ও মির্জা আবদুল লতিফ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ইউপি কমপ্লেক্স থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুঠিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আসলাম আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় একটি মামলা করেন নির্যাতিত কিশোর জার্জিস আলীর বাবা জিয়াউর রহমান (মামলা নম্বর-০৫/০৮/০৩/২০১৭)। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ওই দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
এএসপি জানান, মামলায় ওই দুই ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৬) ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলীকে (১৫) গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। দুই কিশোর উপজেলার আমগাছী সাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ওই দুই কিশোরকে শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করেছেন ১৬ হাজার টাকা জরিমানা। তবে এ টাকার প্রায় পুরোটাই তিনি নিজের পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কথিত ওই গ্রাম্য সালিশে ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফও উপস্থিত ছিলেন। সালিশে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই দুই কিশোর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আন্দুয়া গ্রামের রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি ছাগল চুরি করে নিয়ে যায়। ভোর রাতের দিকে মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় বাজারের নৈশ্য প্রহরীরা ছাগলসহ তাদের আটক করে। পরে সকালে ইউপি সদস্য আবদুল মোতলেব ওই দুই কিশোরকে নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
এরপর ওই দিন বেলা ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশে সালিশ বসানো হয়। সালিশি বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। পরবর্তিতে তাদের পরিবারের লোকজনকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানার এ টাকার মধ্যে আড়াই হাজার টাকা ছাগল মালিককে দেয়া হয়। বাকি টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন ইউপি সদস্য আবদুল মোতালেব। এরপর ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতেই নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানায় এ মামলা দায়ের হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ