দুই দিন পরে আবারও বেড়েছে ঠান্ডা রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি

আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২১, ১০:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে করে শীতের তিব্রতা বহুগুনে বেড়েছে। রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীতে সূর্যের দেখা মিললেও ছিল ফুরফুরে বাতাস। সারারাত ছিলো ঘন কুয়াশা। আর সারাদিন বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতাও ছিলো। নগরবাসীর জবুথুবু অবস্থা।
রোববার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ কারণে রোববার থেকে আবারো বেশি পড়েছে শীত। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উকিঁ দেয় সূর্য। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও কমেনি ঠান্ডা বাতাসের কাঁপুনি। এতে জবুথবু অবস্থায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগেন মধ্যে পড়ে। শীতের সকালে নগরীর কয়েক জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমজীবী মানুষ শীতের সকালেই জীবিকার তাগিদে শহরে এসেছেন। কিন্তু বাদের সবার কাজ পাওয়া নিশ্চিত হয়নি। বাতাস বেশি থাকায় রাস্তায় চলাচলে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। গরম কাপড় পরে সবাই বাইরে বের হয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে ঠান্ডার তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে।
সকাল দশটায় নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজার করছেন অনেকে। ক্রেতা তানিয়া সুলতানা জানান, গত দুইদিনের চেয়ে আজ অনেক বেশি শীত পড়েছে। সকালে বাজারে এসে রাস্তায় তা টের পাচ্ছি।
সুমন রহমান নামের আরেকজন জানান, প্রতিদিনের মতই সকালে ঘুম থেকে উঠেছি। তবে সকালেই উঠে অনুভব করছি ঠান্ডা পড়েছে।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও শীতজনিত বিভিন্ন অসুখে কয়েক সপ্তাহ থেকেই বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুদের সংখ্যা বেশি।
রামেক হাসপাতালের তথ্য মতে, স্বাভাবিক সময়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে প্রতিদিন ৮০-৯০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে এই হাসপাতালে।
এদের অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। সর্দি-কাশি-জ¦র ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন বেশি। গত কয়েকদিন থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে এখন রোগী বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জন বেশি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘন কুয়াশার ও মাঝে মাঝে হালকা বাতাসে ঠান্ডাজনিত রোগী বাড়ছে হাসপাতালে। ছোটদের নিউমোনিয়া, বড়দের শ্বসকষ্ট, সর্দি-কাশি-জ্বর, ডায়রিয়াসহ এলার্জিজনিত সমস্যা নিয়ে রোগি ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই শীতে বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করে রাখতে হবে। শীত জনিত সমস্যা হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।
শিশু বিভাগের ওয়ার্ড ঘুরে ও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন ৮০ জনের বেশি রোগী নতুন করে ভর্তি হচ্ছে। যার মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগীদের সংখ্যা বেশি। রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, শীতের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে আমরা সকল ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। শীতের কারণে ওয়ার্ড গুলোতে রোগীদের উন্নতি করতে চিকিৎসার কিছু পরিবর্তন নেয়া হয়েছে। সকল চিকিৎসক নিয়মিত দেখভাল করছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এএফএম গাউসুজ্জামান জানান, গত দুইদিনের চেয়ে রোববার থেকে ঠান্ডা বেশি পড়েছে। গত কয়েকদিন কুয়াশা কম ছিলো। দুই-তিন দিন কুয়াশা কম থাকলেও গতকাল থেকে কুয়াশা বেশি পড়ছে। এমনটি আরো চারদিন থাকতে পারে! সকাল ৯ টার পরে রোদ বের হওয়ার সম্ভবনা বেশি তবে বাতাস থাকতে পারে। রোববার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো সকালে ছিলো ৯২ শতাংশ ও সন্ধ্যায় ৭৭ শতাংশ ।